ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’ এ কবিতার ব্যবহার : দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায় :: সুপ্রভা জুঁই

0[যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী  দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায়ের ইংরেজি লেখা থেকে বাংলায় ভাবানুবাদ]

জয় গোস্বামী তাঁর এক লেখায় বলেছিলেন, লেখক যতটা ভাবেন, আসলে তার খুব কমই তিনি লিখতে পারেন। প্রায় সব লেখকের কাছেই এই কথা শোনা যায়। আমি-ই যে প্রথম এটা আবিষ্কার করলাম তেমন নয়। এটা সকলেরই জানা এবং খুবই সত্য কথা।

একইভাবে একজন মানুষ যতটা কল্পনা করতে পারে তার খুব সামান্যই সে স্মরণ করতে পারে। এইরকম কিছু অনুস্মরণপুস্তকের পুনরাবৃত্তিকরণের মধ্য দিয়ে কবিতার জন্ম হয়। কবিতা নিজেই তাকে সৃষ্টি করে, তার সীমা নির্দেশ করে এবং সেই পরিবেশের সাথে সংঘর্ষ করে।  

২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমা ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’এ কাহিনীর বর্ণনায় দৃশ্যায়নের পাশাপাশি কবিতাকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। সিনেমার প্রথম শট-টা থেকে শুরু করে শেষ শট-টা অবধি কবিতার বুননের দ্বারা পরিপার্শ্বিক অবস্থা আর চরিত্রগুলো ফুটে উঠেছে খুব দারুন করে। কিছুটা বোহেমিয়ান আর ভুলোমনা বাঙালি কবি ইন্দ্রনীল মিত্রের (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) মৃত্যু এবং এর পরের নানা অংক কষার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে এই ছবির মূল কাহিনী। পুরো ছবিতে বাংলা ইংরাজি মিলিয়ে প্রায় আটটির মত কবিতা আছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি কবিতার কিছু অংশ ছাড়া বাকি প্রায় সব কবিতা কবি জয় গোস্বামীর লেখা। সেসকল কবিতার কিছু কিছু আগেই লেখা হয়েছিলো আর কিছু কিছু কবিতা একেবারেই এই সিনেমার কথা ভেবেই লেখা। তাই ফ্লায়ারে, পোস্টারে, ডিভিডিতেও কবিতার খানিক অংশ তুলে দেওয়া হয়েছে যাতে করে এ সিনেমার চিন্তাটা কী তা লোকে বুঝতে পারে। সিনেমাটোগ্রাফি থেকে সেটাপ পর্যন্ত, ক্যারেক্টারাইজেশন থেকে কম্পোজিং পর্যন্ত সবটাই ভীষণ কাব্যিক। সেটা কেন্দ্রীয় চরিত্র স্বয়ং একজন কবি বলেই হয়তো। এই লেখাতে দুইটি আর্ট ফর্মের পারস্পারিক সম্পর্কের উপর আলোচনা করা হবে যে ঠিক কী করে এই দুইয়ে মিলে গল্পটা বলতে সাহায্য করছে।

1

সিনেমার শুরুতেই আমরা দেখতে পাই যে কবিতা পাঠের সাথে সাথে প্যান ডাউন করে একটা অন্ধকার ঘরের আগমন। যেখানে ফোকাস করা হচ্ছে জানালার পর্দায়, বাদিকে কিছু পুতুল ঝুলানো, তারপর এক গ্লাস দুধ, একটা খেলনা ট্রেন গাড়ি আর সবশেষে দেখা যায় একটি ছোট্ট মেয়ে টাইপ করছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সাথে সাথে একজনের গলা শুনতে পাই আমরা, ইংরেজিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার প্রথম চারটে লাইন সে বলে চলেছে।

Our little river twists and turns

In May its water needy prunes

Cows bathe across carts bail through

Banks are high and sloping too

আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে

বৈশাখ মাসে তার হাঁটু-জল থাকে

পার হয়ে যায় গরু পার হয় গাড়ি

দুই ধার উঁচু তার ঢালু তার পাড়ি

এই লাইনগুলি বলছিলো সিনেমার মুখ্য চরিত্র রাধিকা সেন (বিপাশা বসু), তার ক্রিয়েটিভ রাইটিং ক্লাসে প্রথম কবিতা লেখা চেষ্টার অভিজ্ঞতা হিসেবে। যেখানে সে রবীন্দ্রনাথের এই কবিতাটি নিজের নামে লিখে জমা দিয়েছিলো। আর যেহেতু আম্বালা অ-বাঙ্গালিদের জায়গা তাই সে যাত্রায় সে উৎরে যায়।

2

ছবিতে পর্দায় এসময় যা দেখতে পাই আমরা তা হলো, ছোট্ট মেয়েটার ঘরে থাকা সুসজ্জিত বইয়ের তাক, একটা গ্লোব আর তারপর আবার টাইপ করছে ছোটবেলার রাধিকা।

3

সে জানায় ইন্দ্রনীল-কে বিয়ে করে কলকাতা আসার পথেই সে প্রথম নদী দেখে, যে নদীর কথা সে সেদিনটায় লিখেছিলো। এক্ষেত্রে পরিচালকের বুননটা ছিল এরকম- নদীর উপর দিয়ে ছুটে চলা ট্রেন, তার জানলা দিয়ে গ্রামের কিছু দৃশ্য চলে যাচ্ছে একের পর এক, এরপর দেখা যায় রাধিকাকে বিয়ের সাজে শান্তভঙ্গিতে হাতটাকে জানালায় রাখতে।

এই প্রথম কিছু শট সিনেমার দুইটি গুরুত্বপূর্ণ রূপকে প্রতিষ্ঠিত করে।

–   কবিতা চুরি করা

–   ট্রেন, সময়ের বয়ে চলার প্রতীকী রূপ    

কবিতা চুরির ঘটনার একটা পুনরাবৃত্তি সিনেমাতে পরবর্তীতে দেখা যায়। কিন্তু এখানে রাধিকা এই ধারার সূচক। এই কবিতা চুরির ঘটনাটা আপাত দৃষ্টিতে ছোট্ট মেয়ের ইনোসেন্ট একটা কাজ হিসেবে মনে হতে পারে, কিন্তু, মূলত এটা একটা অগভীর স্রোতধারার উপর দিয়ে গোপন যাত্রার গূঢ়ার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এই অবস্থাগুলো রাধিকা আর ইন্দ্রনীলের যুগল জীবনের শুরুটা প্রতিস্থাপন করেছে। অনেক টুইস্ট আর মোড় আছে এই সম্পর্কের। ওদের সম্পর্কের অস্তিত্বটা বৈশাখের ঝলসানো গরমের সাথে চ্যালেঞ্জ করে চলার মতন। যেটা এটাই বোঝায় যে তাদের সম্পর্কটাও যেন চুরি করা, অমিলের সাথে মিল খুঁজতে জোর প্রমাণের চর্চার মতন।

4

আবার একটা ট্রেনের সিন আসে, তারপর পর্দা ফেড হয়ে যায় আর এর পরেই দেখা গেলো ইন্দ্রনীলকে মৃত। কেউ একজন বৃথা চেষ্টা করেছে ধুপকাঠি জ্বালিয়ে দেওয়ার ফ্রেমের ডান দিকে। বাস্তবিকই এ এক কাব্যিক দৃশ্য।

এরপর আমরা আরও নানা দৃশ্য দেখতে পাই যার দরুণ বুঝতে পারি যে ইন্দ্রনীল মারা গেছে। সে পূজার সময় মারা যায়। রাধিকা ইন্দ্রনীলের মৃত্যুর জন্য তার কবি বন্ধুদের আয়োজনে এক শোকসভাতে আমন্ত্রণ পায়। সিনেমাটি রাধিকার একার কথা দিয়ে শুরু হয়, এরপর শোকসভা থেকে সেদিনের সন্ধ্যার নানা অভিজ্ঞতা সিনেমার শেষ অবধি চলতে থাকে।

এই সিনেমার একটা মজার ব্যাপার হলো যে বর্তমানে ঘটা সব ঘটনাগুলো ধারণ করা হয়েছে বদ্ধ ঘরে আর সব ফ্ল্যাশব্যাক সিনগুলোকে দেখানো হয়ছে বিস্তৃত সবুজ আর বৃক্ষমণ্ডলীর মাঝে। চিত্রায়নের এই চিন্তাধারা আমাদেরকে একজন আবদ্ধ মানুষের তার বাস্তবতা থেকে সম্পর্কগুলোর পর্যবেক্ষণ, তার আশ্রয়, আবার পলায়নের জায়গাগুলোকে সাদা কালো পর্দায় অনবরত বলে যাওয়া কবিতার মধ্য দিয়ে স্মৃতির সাথে সাথে আবেগকে তাড়িয়ে নিয়ে ফেরে।

এর পরের কবিতা ‘নন্দর মা’।  ইন্দ্রনীলের শোকসভায় জয় গোস্বামী নিজেই আবৃত্তি করেন কবিতাটি। এখানে কতগুলো শটের একটা সিকোয়েন্স দেখা যায় যেখানে ‘নন্দর মা’ অর্থাৎ প্রিয়বালা দাশের প্রাসঙ্গিকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রিয়বালা দাশ বাড়ির বয়স্ক কাজের মানুষ। ১৯৪৭ এ দেশভাগের সময় তাকে তার পূর্ব-পুরুষের ভিটা, পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে কলকাতা চলে আসতে হয়।

5

এ কবিতায় ভেসে ওঠে তার আত্ম পরিচয়ের রাজনীতি- কী করে প্রিয়বালা দাশ নন্দর মা-এ পরিণত হলেন। আলালি থেকে নন্দর মায়ের বিবর্তনটা ইন্দ্রনীলের কল্পনা, দেশভাগের সময় এক’পা দু’পা হাঁটতে শিখেছে এক শিশু থেকে বাড়ির কাজের মানুষ নন্দর মা হয়ে ওঠার গল্প। এই কবিতা আবৃত্তির সাথে সাথে ব্যাকগ্রাউন্ড ট্র্যাক আর সেপিয়া টিন্টেড ক্লিপ্সে আমরা দেখতে পাই মাইগ্রেটেড হয়ে লোকজন আসছে কলকাতায়। সেইসাথে ট্রেনের আগমনও সিনেমায় যাত্রার প্রভাবকে জাগিয়ে রাখলো।

এই শটগুলো থেকে প্রায় হঠাৎ করেই চলে আসে সবুজ গ্রামের পাশ দিয়ে নীল ট্রেন ছুটে চলেছে এমন একটি দৃশ্যে। এমনি করেই পরিচালক আমাদের নিয়ে আসেন বর্তমানে আসলে ফ্ল্যাশব্যাকে, যেখানে রাধিকাকে দেখা যায় শেখরের সাথে ট্যুরে, শুরু হয় আরেকটি গল্পের।  

 ‘নন্দর মা’ কবিতাটি গানের সুরের মতন শুরু হয়, আমরা এসেছিলাম, এরপর গুনগুন করতে করতে প্রথম কবিতার সেই যাত্রার রেশটাকেই যেন আঁকড়ে ধরে। ফলে ‘নন্দর মা’ শুধু দুই বাংলা ভাগের প্রতীক হিসেবেই নয় বরং দুই চরিত্র- রাধিকা এবং ইন্দ্রনীলের টানাপোড়েনের প্রতীকেও পরিণত হলো। পরিশীলিত রাধিকা আর বোহেমিয়ান ইন্দ্রনীলের মাঝে একটা ভারসাম্য হিসেবে কাজ করেছে নন্দর মা’র ধৈর্য এবং পরিপক্কতা। একমাত্র সে-ই ঘরকে বিকশিত করে রেখেছিলো। কবিতাটা অতীত সময়ের সাথে ভবিষ্যৎ সময়ের একটা যোগ করেছে রাধিকার মাঝে। শেখরের সাথে অতীতের টুইস্ট-টা আর সেখান থেকে এই শোকসভা পর্যন্ত যেভাবে সেটা তাকে টেনে নিয়ে আসলো।

6

আরেকটা ক্লিপে দেখা যায়, শোকসভায় ‘নন্দর মা’ আবৃত্তি করা কবিতাটি টেলিভিশনে প্রচার করা হচ্ছে। নন্দর মা সেটা বসে বসে দেখছে আর কাঁদছে।  পরে সে-ই জানায় রাধিকাকে যে, কবিতাটির বেশিরভাগই ইন্দ্রনীলের মনগড়া। শুধুমাত্র তার জীবনের নির্যাসটুকু রয়েছে এতে। এখানে আমরা দেখতে পাই কী করে একটি কবিতা কাজের মানুষের নিছক প্রামাণ্যচিত্র থেকে সিনেমার একটা গুরুত্বপূর্ণ চিন্তায় পরিণত হলো।

এই ছবির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি হলো ইন্দ্রনীলের শোকসভায় তার বন্ধুর ইন্দ্রনীলকে নিয়ে স্মৃতিকথনের মাঝে মাঝে কাজরী রায়ের আনাগোনা। কবি Edger Allan Po এর যেমন রয়েছে ‘Annabel’, আবার কবি জীবনানন্দ দাশের যেমন রয়েছে ‘সুচেতনা’ তেমনি ইন্দ্রনীলের কল্পনায় নিখাদ ভালোবাসার প্রতীকরূপে এসেছে কাজরী রায়। কাজরী রায় ইন্দ্রনীলের কাছে বাস্তবতার ঘ্রাণ-স্বরূপ। ছবিতে আমরা জানতে পারি ইন্দ্রনীলের বেশিরভাগ কবিতা ছিলো এই কাজরী রায়কে কেন্দ্র করে। রাধিকার সব সময়ের জিজ্ঞাসা ছিলো যে, কে এই কাজরী রায়। এ কী রাধিকা স্বয়ং? নাকি অন্য কেউ? কিন্তু ইন্দ্রনীল কখনো সেই প্রশ্নের গভীরে যায়নি কেবল জানিয়েছিলো সে রাধিকা নয়।

শোকসভায় কাজরীর উপরে লেখা একটা কবিতাটি পাঠ করছিলেন পল্লব কীর্তন। সে কবিতায় দেখা যাচ্ছে কাজরীর ভীষণ জ্বর, কিন্তু ইন্দ্রনীল সেসবের তোয়াক্কা না করে দূরে কোন এক গাঁয়ে বাউলদের সাথে মেতে আছে। অনেকটা এইরকম ঘটনাই রাধিকার সাথে ইন্দ্রনীলের ঘটেছিলো। সেটাই তখন তার মনে পড়ে যায়। সেবার রাধিকার খুব জ্বর এসেছিলো। তখন ইন্দ্রনীল ট্রিপে আপিসের কাজে বাড়ির বাইরে। এই ঘটনা সিনেমার আরেকটি চিন্তাকে উস্কে দেয়- পরিচয় সংকট। এক মুহূর্তের জন্য রাধিকার মনে হয়েছিলো ইন্দ্রনীলের মনের চোখে সেই-ই বুঝি কাজরী। ছবিতে পরবর্তীতে আমরা দেখতে পাই কল্পনার ছবিতে কাজরীর চরিত্রে পাওলী দামকে। ইন্দ্রনীলের মৃত্যুর পরপরই রাধিকা বুঝতে পারলো তার আর কাজরীর মাঝে বন্ধনটা কতটা তীব্র এবং মজবুত। অথচ ভাঙ্গাচোরা একটা সম্পর্কও কেমন করে এতটা দৃঢ় হতে পারে সেটার জানান দিতেই সিনেমায় কল্পনার কাজরীকে বাস্তবে হাজির হতে হলো। কাজরী রাধিকার অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইন্দ্রনীলের প্রতি তার প্রেমকে আরো গাঢ় করে তুলল।

7

শেখরের সাথে রাধিকার একটা আলোচনার শটে আমরা দেখতে পাই যে রাধিকা এই দাম্পত্য জীবনে খুশি নয় এবং এই সম্পর্কের নিষ্পত্তিকরণের মধ্য দিয়ে সে সুখ খুঁজে পেতে চায়। একইসাথে এটাও বলে যে, এতে ইন্দ্রনীল ভীষণ আহত হবে, কারণ এই সম্পর্কে যে ফাটল রয়েছে তা সে একটুও বুঝে উঠতে পারেনি। এর কারণ হলো ইন্দ্রনীল তার কবিতা আর কাজরী রায়ের মধ্য দিয়ে অস্তিত্বের বেদনা কাটিয়ে উঠত পারতো। কাজরী রায়ের উপস্থিতি রাধিকাকে অবচেতনেই নতুন রূপে উদ্দীপ্ত করে তুলেছিলো।

‘সব চরিত্র কাল্পনিক’এ ব্যবহৃত অন্যতম একটি কবিতা হলো, ‘হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে’। কবিতাটি জয় গোস্বামীর ‘যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিলো’ কাব্যগ্রন্থে পূর্বেই প্রকাশ পেয়েছিলো। সেই কবিতাটিকে ঋতু এখানে সিনেমায় তার ভাষায় রূপান্তর করেন। শুধু তাই-ই নয়, এই সিনেমায় এটাই বোঝানো হয়েছে যে এই কবিতাটি ইন্দ্রনীলের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সর্বাধিক আবৃত্তি করা কবিতার একটি। ফ্ল্যাশব্যাকে আমরা দেখতে পাই যে রাধিকা কী করে এই কবিতার জন্মলগ্নের সাথে জড়িয়ে আছে। কোন একদিন একসাথে ঘুরতে যাওয়ার পথে ‘হাসকুড়ি’ নদীর ধারে চলে যায় রাধিকা। সেই নাম শুনতে ফুসকুড়ির মতো লাগে বলে পালটে দিয়ে ইন্দ্রনীল নদীর নাম দেয় ‘অলকানন্দা’। সেদিন ঐ নদীর পাশে এক বনে রাধিকা একটা কবিতাও লিখেছিলো। কিন্তু সেটা ঘরে ফেরার পথ হারিয়ে ফেলে। একই পথে চরকি কাটছে ভেবে কবিতার কাগজটা ছিড়ে ছিড়ে চিহ্ন-রেখা হিসেবে কাজে লাগিয়ে তবেই সে বাড়ি ফিরে আসে ইন্দ্রনীলের কাছে। এই সদ্য জন্ম নেয়া কবিতার এমন অকাল-মৃত্যুতে ইন্দ্রনীলের কলম ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে,

কবি ডুবে মরে, কবি ভেসে যায়, অলকানন্দা জলে।

8

অসাধারণ পরিপক্বতার সাথে কতগুলো শট দিয়ে সিনেমায় এই কবিতাটিকে চিত্রিত করা হয়েছে। এর মাঝে রাধিকার কর্দমাক্ত পা পরিষ্কার করার শটটা উল্লেখযোগ্য। এই দুই পা একটা যাত্রা নির্দেশ করে, আর তাতে মেখে থাকা কাদাগুলো এই সিনেমায় দীর্ঘায়িত পরিচয় সংকটের চিন্তাটাকে স্মৃতির রূপকে ফুটিয়ে তোলে। যার ফলে পুরো সিনেমায় এই দুই মেরুর মানুষের মাঝে প্রেমের বাঁধনকে ক্রমে ক্রমে বুঝে উঠতে আমাদের এতটুকুও কষ্ট হয়নি।

ইন্দ্রনীলের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাধিকা বুঝতেও পারেনি যে, সে রাধিকার প্রতি কতটা নির্ভর করতো। তার মনে হতো ইন্দ্রনীলের জীবনে রাধিকার কোন স্থান নেই, রাধিকার কী দরকার বা কীসে তার স্বস্তি সে ব্যাপারে ইন্দ্রনীল দারুন উদাসীন বলেই রাধিকার ধারণা ছিলো। কিন্তু ইন্দ্রনীলের মৃত্যুর পরেই রাধিকা বুঝতে পারলো যে সেই-ই ছিলো ইন্দ্রেনীলের কবিতার প্রতিটি চরণের অনুপ্রেরণা। আর কেবলমাত্র রাধিকা নয়, অমনোযোগী ইন্দ্রনীলের অনুপ্রেরণা ছিলো সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ যেমন- গগন, লন্ড্রির ছেলেটা, তাদের বাড়ির কাজের মানুষ নন্দর মা। রাধিকা কিন্তু এদের ব্যাপারে একেবারেই অচেতন ছিলো। কিন্তু ইন্দ্রনীলের মৃত্যুর পর তার কবিতাগুলো যখন আলাদা করে প্রাধান্য পেতে শুরু করলো তার কাছে, তখনই হঠাৎ করেই এই অতি পরিচিত চারপাশ সে নতুন করে আবিষ্কার করতে শুরু করলো।

এই সিনেমায় আরো দুইটি কবিতার প্রয়োগ দেখা যায়। সিনেমার সর্বশেষ কবিতাটি আসে রাধিকার অবচেতনে, রাতের বেলায় ঘরের মাঝে যখন সে এলোপাতাড়ি হেঁটে চলেছে শোকসভা থেকে ফিরে আসার পরপর। শোক সভা থেকে ফিরে আসতে আসতে কিন্তু রাধিকার চিন্তারা মোচড় খেয়েছে, তার অন্তঃস্থ অনুধাবনের ফলে সেগুলো হয়েছে গভীরতর। তার স্বরূপ ভেঙ্গে আবার নতুন করে গড়ে উঠেছে সে। তার মনে তখন হাজারো প্রশ্নের আগমন। সে নিজে, ইন্দ্রনীল, শেখর*** আর কাজরীর এই চতুর্ভুজ সম্পর্কে সে তখন আচ্ছন্ন। হঠাৎ করেই যেন সে বুঝতে পারলো আর যে কারো চাইতে সে ইন্দ্রনীলকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে; সে বিশ্বাস করতে শুরু করলো তার হৃদয় মন্দিরে এখনো ইন্দ্রনীল মূর্তিমান হয়ে বেঁচে আছে, এবং প্রতিটাদিন ইন্দ্রনীল আরো জীবন্ত হয়ে উঠছে রাধিকার লালনে।

9

এমনকি সে কাজরীকেও দেখতে পেতে শুরু করে। অনেকটা যেন রাধিকার পোশাকেই তার আগমন ঘটে। সব সময়ে যে চরিত্র তার প্রতিপক্ষ হিশেবে এসেছে আজ সেই-ই তার নিত্যদিনের পরম বন্ধু।

10

রাধিকা নিজেকে কাজরী বোধ করে, তাকে পৃথক ভাবতে পারেনা। প্রচণ্ড চাপের মাঝে সে যখন আরাম পেতে নিজের ঘাড়ে আলতো চাপ দেয় তার মনে হয় যেন কাজরী তাকে পরম স্নেহে ঘাড় টিপে দিচ্ছে। ইন্দ্রনীল চলে গিয়ে কাজরীকে দিয়ে গেলো রাধিকার জন্য। এইরকম সময়েই সে যখন প্রশস্ত রাত্রিকে সামনা করে দাঁড়িয়ে রয়েছে তখন অন্তরে ফিরে আসে ইন্দ্রনীলের নিজের গলাতেই তার এক কবিতা:

আজ আর আমাদের ঘুম আসবেনা

চলো, ছাদে দাঁড়াই

ছাদ কোথায় পাবো?

আমাদের মাথার উপর তো আর দু’জন ঘুমাচ্ছে

তার উপরে আরেকজনের শোবার ঘর

তার উপর আর কারো খাটপালঙ্ক পাতা

তারো উপরে আর দু’জনের দাপাদাপি

এতসব পেরিয়ে ছাদে উঠতে উঠতে তো ভোর হয়ে যাবে

 তার চেয়ে চলো আকাশে গিয়ে দাঁড়াই

যেকোনো তারার গায়ে হাত রেখে

দু’জনে সংকল্প করি

যেন কাল থেকে তোমার আগের স্বামী

তোমার সব দুঃখ বনে বনান্তরে জোনাকি হয়ে মিলিয়ে যায়

এই কবিতাটি সিনেমার গোটা কাহিনীর আবর্তনরূপে প্রকাশ পাচ্ছে। কবিতার প্রথম অংশটি স্বাধীনতা অর্জনের অযৌক্তিকতাকে নির্দেশ করে। কিন্তু এর শেষ দুই চরণ এক নিখুঁত ইতি টানে। এখানে এক উচ্চতম সংকল্প বোঝায়, যা অপেক্ষাকৃত ভালো জীবন-যাত্রার নিশ্চয়তা দেয়। এখানে ‘আগের স্বামী’ বলতে ইন্দ্রনীল নিজেকেই বুঝিয়েছে। রাধিকার দ্বিতীয় অধ্যায়ের যাত্রাকে চিহ্ন করেই একথাগুলো বলা যেখানে সে পূর্বের যাবতীয় বেদনা ভুলে ইন্দ্রনীলের আত্মার সাথে নিজেকে মিশিয়ে ফেলেছে। সে জন্য শেখরের সাথে তার সম্পর্ক পাকাপাকি হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যায়। সে কলকাতা ছেড়ে নতুন এক জীবন যাত্রার কথা ভাবতে থাকে। কবিতাগুলো এখানে তাই সিনেমার চিন্তাকে প্রতীয়মান করতেই ব্যবহৃত হয়েছে।

এই সিনেমায় পাওয়া শেষ কবিতাটি হলো এক ঘরছাড়া পাগলকে নিয়ে। কবিতাটি উত্তম পুরুষে লেখা একজন নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে এবং খুব সম্ভবত সেই রাতের কথা ভেবেই লেখা যে রাতে সে ঘর ছেড়েছিলো। রাধিকা আবিষ্কার করলো যে তারই এক ইংরেজি কবিতা থেকে ইন্দ্রনীল বাংলায় এই কবিতাখানা টুকে নিয়েছিলো। আবার সেই কবিতা চুরির ঘটনাটার এখানে প্রত্যাবর্তন হলো। সেই যে সিনেমার একদম শুরুর প্রথম কবিতাটা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের, যেটা রাধিকা চুরি করেছিলো নিজের বলে। আর এই সিনেমার শেষ কবিতাটাও আমরা দেখতে পেলাম ইন্দ্রনীল চুরি করেছে। রাধিকা আবেগে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে যখন নন্দর মা তাকে জানায় যে ‘দাদাবাবু’ মানে ইন্দ্রনীল এই কবিতাটি তাকে পড়ে শুনিয়েছিলো। সিনেমাতে এই চুরি করা কবিতাটি আবৃত্তি করে কাজরী রায়। এর ফলে ব্যক্তি কাজরী আর রাধিকার মাঝের দ্বৈততা এবং সাংঘর্ষিক ভাবটার প্রকাশ ঘটে। ইন্দ্রনীল যেহেতু রাধিকার কবিতা চুরি করে লিখেছিলো আর সেটাই যখন আমরা কাজরীকে আবৃত্তি করতে শুনি তখন রাধিকাই যে কাজরীর এক রূপ, সেটা কিন্তু এই রূপক চিত্রিতকরণে প্রমাণ পেলো। কবিতাটি একজন নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা বলে আমরা ইন্দ্রনীলের আরেক আবেগের সাথে পরিচিত হই যা একজন নারীর মতই ভীষণ সরল, নাজুক এবং মমতাময়ী। যার দরুন তার জীবনে স্ত্রী রাধিকার এক শক্ত প্রভাব আমরা বুঝতে পারি। এই কবিতাটি ইন্দ্রনীলের অন্যান্য কবিতার মতন প্রকাশ হয়নি। কেবল তার ডায়েরীতে অরিজিনাল ইংরেজি কবিতার সাথে সে রেখে দিয়েছিলো। অরিজিনাল ইংরেজি কবিতাটা রাধিকার গলাতেই শোনা যায়, সেইসাথে ফ্ল্যাশব্যকে দেখানো হয় পূর্বের দাম্পত্য জীবন। যেখানে রাধিকাও টের পায় কীরকমভাবে সে অজান্তেই জড়িয়ে পড়েছিলো ইন্দ্রনীলের সাথে। এই কবিতা তাই মূলত দুজনের প্রেমের গভীরতা বোঝাতেই প্রতীকী রূপে কাজ করেছে। এই একটি কবিতা দিয়ে রাধিকা তার চরিত্রের ক্লাইমেক্সের উচ্চ শিখরে উঠে এসেছে।

11

সিনেমার শেষ চারটে লাইন অরিজিনাল বাংলা কবিতা থেকে নেওয়া- আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে। শটে দেখা যায় রাধিকা আর ইন্দ্রনীল রাতে তারাভরা আকাশের নিচে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে জীবন, মৃত্যু আর সেসমস্ত কিছু মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া নিয়ে কথা বলছে। রাধিকাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হলো কোথা থেকে আবার নতুন শুরুটা করতে চায় সে, জবাবে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের সাথেই সে জানিয়ে দিলো যেখান থেকে তাদের শুরু হয়েছিলো ঠিক সেখান থেকেই।

12

বলা মাত্রই আমরা দেখতে পাই সেই ট্রেনের ভিতরের সিনটা। একজন নারীর হাত জানালায় ছোঁয়ানো, জানালার ওপারে গ্রামীণ সবুজ। ধীরে ধীরে হুইসেল বাজিয়ে এক সেতুকে সাক্ষী রেখে ট্রেন চলেছে তার যাত্রাপথে। সাথে সাথে রাধিকার গলায় শুনতে পাই ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে’ সেই চিরচেনা চারটে লাইন, কিন্তু এবারে বাংলায়। একই দৃশ্যে একইভাবে ট্রেনের জানালায় হাত ছোঁয়াতে দেখা যায় ইন্দ্রনীলকেও।

এবার কিন্তু একই যাত্রায় তারা দুজনেই সামিল। এইবারের যাত্রায় কোন আসল নকল নেই, কোন লুকোচুরিও নেই, এবার নিজেদের কাছে ফেরার পালা। রাধিকার শুরুতে ইংরেজিতে আর শেষে বাংলায় বলা এই কবিতার মধ্য দিয়ে সিনেমায় বন্ধনী দিলেন পরিচালক। এই সিনেমাতে কবিতাকে বাহনরূপে ব্যবহার করা হয়েছে নানা যাত্রায়- নকল থেকে আসলে, ছিনিয়ে নেওয়া থেকে বাস্তবতায়, কল্পনা থেকে প্রকৃত সত্যে। যতসব রহস্যের ধোঁয়া উঠেছিলো, তা যেন কবিতায় এসে পূর্ণতা পেয়ে গেলো। সবকটা চরিত্রই তাদের পরিণতি পেলো আর এগিয়ে চলল। ইন্দ্রনীল মারা গেলেও তার বাঙালি কবি চেতনা রয়ে গেল রাধিকার শিরায় শিরায়। ইন্দ্রনীল না থাকলেও কাজরীর মতো কল্পিত চরিত্র পর্যন্ত জীবন্ত হয়ে উঠলো রাধিকার জন্যই। খুব সহজ করে লেখা বাচ্চাদের জন্য রবি ঠাকুরের কবিতাটি এক জটিল সমস্যার সমাধান করে অন্যভাবে হাজির হলো এই সিনেমায়। ঠিক যেন জীবন মৃত্যুর মধ্য দিয়েও এক অন্তহীন যাত্রার ছন্দ হিসেবে। সিনেমার পোস্টার কিংবা ডিভিডিতে লেখা আছে:

অর্ধেক লিখেই মৃত্যু

বাকি অর্ধ সেতুর ওপারে

এই দ্বিপদী কবিতায় সিনেমার চূড়ান্ত সত্যটা উঠে এসেছে। এটা ব্যাখ্যা করে যে, কী করে মৃত্যু কারো জীবনে বিরতি আনতে অক্ষম এবং সকল কিছুর ইতি টানতেও। মৃত্যু কেবল জীবনের একটা অংশ শেষ করে, যেটা হলো সেতুর এপার, ওপারের অংশ তখনো বাকি রয়ে গেছে। কেউই জানেনা যে সেতুর ওপারে কী আছে কিন্তু কোন একজনের মুক্তি সেই সেতুবন্ধন তৈরি করে দেয় অত্যন্ত মমতার সাথে। যদিও এই দ্বিপদী কবিতা এক দ্বিধায় ফেলে দেয় যে, এই সেতুবন্ধনটা আসলে কিসের। প্রেমের, না সম্পর্কের, না জীবনের, না মৃত্যুর। এবং কেউ এখনও জানেনা যে, সেতুর ওপারে বাকি অর্ধ-জীবনটা আসলে কেমন। কিন্তু এতখানি আন্দাজ করা যায় যে, তা বোঝার জন্য অন্তর্নিহিত অভিজ্ঞতা আর অনুধাবনের প্রয়োজন। এমন অনুভূতি একমাত্র তখনই আসে যখন কেউ সেতু পার হয়, এমন অনুভূতি একমাত্র তখনই আসে যখন কেউ মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে।

সবশেষে দেখে শুনে এই বলেই শেষ করা যায়, যেসকল কবিতা এই সিনেমায় ব্যবহার করা হলো, তা আসলে এক বার্তারূপে আমাদের কাছে এসেছে ঠিক যেভাবে পরিচালক সিনেমার চিন্তাটা আমাদের দিতে চেয়েছেন। কেবলমাত্র কাব্যিক শব্দ প্রয়োগে নয়, বরং কাব্যিক চিত্রায়নের মাধ্যমে, সকল কবিতার উপস্থিতিতে, অভিনেতাদের দক্ষতায় এই সিনেমা প্রাণ পেয়েছে। সিনেমার গুঢ় অর্থ কবিতাদের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। আর যেহেতু কেন্দ্রীয় চরিত্র নিজেই কবি তাই মুখ্য নারী চরিত্রকেও দেখা গেছে একজন অপরিপক্ব কবিরূপে। কবিতাকে মূলত এখানে এক কৌশলরূপেই ব্যবহার করেছেন পরিচালক, যাতে করে দর্শকদের মনের আবেগ আর দৃষ্টিভঙ্গিকে সিনেমার বক্তব্যের সাথে জড়িয়ে ফেলতে সুবিধে হয়। বলা যায় এভাবেই ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’ এ কবিতা ব্যবহার করে একে সমালোচনা এবং নান্দনিকতার উচ্চাসনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

[ ***শেখর (যীশু সেনগুপ্ত) সব চরিত্র কালপনিকএ ভারসাম্য বজায়কারী নন্দর মায়ের মতনই আরেক চরিত্র। রাধিকার কলিগ সে; এক অর্থে ইন্দ্রনীলেরও। কিন্তু ইন্দ্রনীল বরাবর চাকরিতে উদাসীন। রাধিকার চিন্তায় সে রাধিকার প্রতিও উদাসীন। ইন্দ্রনীলের জীবদ্দশায় রাধিকার জীবনের এই শূন্যস্থানে সময় দিয়েছিলো শেখর। কিন্তু সে রাধিকাকে জোর করে পেতে চায়নি। বরং ইন্দ্রনীলের সাথে যেন রাধিকার বোঝাপড়াটা আবার জেগে ওঠে তার জন্যই যেন তার সব ভাবনা। শেখর বুঝতে পারতো সারাক্ষণ ইন্দ্রনীলের নিন্দা করা রাধিকার সবটা জুড়ে আসলে ইন্দ্রনীলেরই আবাস। এজন্য শেখরের প্রতি রাধিকার কণ্ঠেই শোনা যায়-

Now tell me. কাকে ভালোবাসো? আমাকে না ওকে?

অর্থাৎ ইন্দ্রনীল না রাধিকা। কাকে শেখর বেশি ভালোবাসে। শেখর কেবল হেসেছিলো জবাব দেয়নি। সেই জবাবটাই পেয়ে গেলো রাধিকা ইন্দ্রনীলের মৃত্যুর পর। যখন সে বুঝতে পারলো আসলে শূন্যস্থান বলতে কিছুই ছিলো না। আসলে সবটা জুড়ে ছিলো কেবল ইন্দ্রনীল। শেখরকে নিয়ে দ্বিতীয় সংসার ভাব্বার আগেই রাধিকার কাছে শেখরের প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়।

সিনেমার শেষে দেখতে পাই যে শেখর অন্যত্র সম্পর্ক স্থাপন করেছে কিন্তু রাধিকার প্রতি একটা টান তখনো রয়েছে। যদিও ততদিনে রাধিকা পাল্টেছে। ইন্দ্রনীলের স্মৃতিকে বুকে করে শুরু হয়েছে তার নতুন সংসার।- অনুবাদক]

……………

10991269_10204967351617389_7818208355088667306_n
।। সুপ্রভা জুঁই।। শিক্ষার্থী স্থাপত্যবিদ্যা, এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়।
Advertisements

One thought on “ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’ এ কবিতার ব্যবহার : দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায় :: সুপ্রভা জুঁই

  1. আসল লেখাটা বহু কষ্ট করেও ডাউনলোড করতে পারলাম না। তাই আপাদত এতেই ভরসা। এর ওপর ভিত্তি করে কিছু কথা বলতে চাই।
    প্রথমত, লেখক, যেভাবে ছবিটাকে দেখেছেন, তাতে আমার বিস্তর আপত্তি আছে। দেখলাম লেখক নিজে একজন কবি, তবে তিনি এই ছবিটার ambiguity খুলে খুলে মানে করতে কেন গেছেন? সমালোচকের কি দায়িত্ব শিল্পীর প্রতীকের অর্থ উদ্ধার? শিল্পী সচেতন ভাবে বিশেষ একটু অনুভব সৃষ্টি করার জন্যই প্রতীক ব্যবহার করেন। ছবিতে ট্রেন, পায়ের পাতা, দাড়ি কামানো, খোলা মাঠ, বদ্ধ-মুক্ত ইত্যাদি বারবার এসেছে। তার অনুরণন (মানে নয়) আমি, দর্শক নিজের করব। সেখানে সমালোচকের মাস্টারি করার কোন প্রয়োজন হয় না।
    ঋতুপর্ণ একটা সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, এই ছবি থেকে তিনি রিয়েলিটি থেকে সরতে শুরু করেন। ছবির আলোচনায়, অনেকে সুররিয়ালজম এর প্রসঙ্গ টেনেছেন। আমার আরেকবার ছবিটি দেখে মনে হল, অবান্তর। জটিলতার মোড়কে আপাত ট্রাশ জিনিস পরিবেশন, এটাই ছবির বিষয়। আর কবিতা দিয়ে সেটাকে আরো এলিট করার চেষ্টা হয়েছে। যাকগে।
    অনুবাদটা বেশ প্রাঞ্জল এবং ভালো

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s