আলোকচিত্র সবসময়ই সত্য কথা বলে, আর এই জন্যেই এটি কোনওমতেই শিল্প নয় : আরা গুলের :: মাহমুদ আলম সৈকত

s-d9ccdb767c2d70e0d4eb918191456f26675f5ba8jpgআরা গুলের বিখ্যাত তুর্কি আলোকচিত্রী অর্ধশতাব্দী জুড়ে তাঁর কর্মযজ্ঞ তিনি ফটো সাংবাদিক না কি আলোকচিত্রী শিল্পী, এই দ্বন্দ বহুচর্চিত নিজেই জিইয়ে রেখেছেন, আর তার ভক্তদের মধ্যে তৈরী করে দিয়েছেন এক আশ্চর্য ঘোর ভীষন মর্জিমাফিক চলা মানুষ, আলটপকা কথায় পর্যুদস্ত করেন শ্রোতাদের প্রথমপাঠে মনে হতে পারে, এসবই অসংলগ্ন কথামালা কিন্তু যতই পাঠক অনুধাবনের চর্চায় যাবেন, ধরতে পারবেন তাঁর অন্তর্গত কথার অনুরণন একই ভাবনা ভাবছেন তিনি; তার ছবির জন্য, জীবনযাপনের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য, দর্শনের জন্য ফলে অনবদ্য এই পাঠ আগ্রহী আলোকচিত্রীদের জন্য যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি শিল্পবোদ্ধা বা অপরাপর মাধ্যমের চিন্তাশীল ব্যক্তির জন্যও সমানভাবে ক্রিয়াশীল

(মূল স্বাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছে টার্কিসটাইমস্এর ২০০২ সালের ডিসেম্বর সংখ্যা প্রকাশিতইন্টারভিউ উইথ আরা গুলেরথেকে পাশাপাশি ‘*’ চিহ্নিত অংশগুলো নেওয়া জার্মান ওয়েবজিন দে তাগেসপিগঁএর ২০ অক্টেবর ২০১৪ সংখ্যা থেকে,এটি গ্রহণ করেছিলেন ফটো সাংবাদিক পিটার সঁৎযে এই সংযোজন আলাপচারিতার ধারার সাজুয্য রেখেই করার চেষ্টা হয়েছে)

 

স্বাক্ষাৎকার দিতে পছন্দ করেন?

আমাদের কথা কি রেকর্ড হচ্ছে? স্বাক্ষাৎকতার দিতে আমার খুব একটা ভাল লাগেনা, কেননা জীবনভর আমি অন্যের সাক্ষাৎকারই নিয়ে বেরিয়েছি। আর এখন আপনি আমাকে পাল্টা কাজে উদ্বুদ্ধ করছেন। যা-ই হোক…

ধরুন,যার স্বাক্ষাৎকার গ্রহণ করছেন তার কোনও বিরক্তিকর ব্যাপার সামলানোর ক্ষেত্রে আপনি স্বউদ্ভাবিত কোনও পদ্ধতি অনুসরণ করেন?

প্রথম কথা, আমার যাকে অপছন্দ তার স্বাক্ষাৎকার আমি নি-ই না, থোড়াই কেয়ার। যখন সংবাদপত্রে কাজ করতাম, বলতাম, ‘এই লোকটাকে আমার পছন্দ নয়। অন্য কারোর কথা ভাবুন।’ আবার যার স্বাক্ষাৎকার নিচ্ছি, তার বইপত্র বা কাজের সঙ্গে পরিচয় থাকলে ব্যাপারটা সহজ হয়ে যায়। তখন আর স্বাক্ষাৎকারের ঢঙে না হয়ে বরং আলাপচারিতার মধ্যে দিয়ে কাজটা সারি।

আপনার এমন অদ্ভূতুড়ে মেজাজি ঢঙেই বেশ জন রথীমহারথী সাংবাদিকের সাথে আলাপচারিতায় মেতেছেন আসলে, আপনার কাছে আসার আগে এই বিষয়টা খানিক বিচলিত করেছে আমাদের

  উহু; সবাই এই কথাটাই বলে কিন্তু বিচলিত হবার কিছু নেই, আশ্বস্ত করছি। আসলে এত বেশিবার এইসব আলা14766-ara-guler-1954পচারিতায় থাকতে হয়েছে যে কিছুটা বিরক্তই হয়ে পড়েছি, সাম্প্রতিক প্রদর্শনীটির আগে আগে আমাকে ২০ জন স্বাক্ষাৎকার নিয়েছে। (স্বাক্ষাৎকারের এই পর্যায়ে এসে আমাদের সঙ্গে থাকা আলোকচিত্রী গুলের-এর ছবি তুলতে শুরু করেন। আর গুলের তখন আলোকচিত্রীর গায়ের কামিজ নিয়ে পড়লেন, যেটি আবার কিঞ্চিত সংক্ষিপ্ত আকারের। এই এক মুস্কিল, এখনকার পুচকেগুলো বুকপেট উদোম করে ঘুরে বেড়ায়। তোমার তো ঠান্ডা লাগার কথা, ঠান্ডা লাগছেনা? শুধু ফ্যাশনের দোহাই দিয়েই এই কাপড়গুলো পড়ছো, দেখো, বেশিরভাগ ডিজাইনারই কিন্তু পুরুষ। আর তারা ভাবে, নারীকে যতটা হাস্যস্পদভাবে উপস্থাপন করা যায়। আমি টিভিতে ফ্যাশন-শো দেখি মাঝেমধ্যে, আর ভাবি, আমার স্ত্রী যদি এমন ধাচের জামাকাপড় পড়ে, প্রশ্নই আসেনা…কথা প্রসঙ্গেই বলে রাখি একসময় ফ্যাশন ম্যাগাজিনের জন্যও আমি কিছু স্বাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। ক্যালভিন ক্লেইনসহ অনেকেরই, বছর বিশেক আগে। অবশ্য ব্যাপারটা তখন এতেটা হাস্যরসাত্মক ছিলোনা। আচ্ছা, আমার যেন কোন আলোচনায় ছিলাম?

 

এমন তো নয় যে আপনি পুশ বাটনে চাপ দিলে আরআরা গুলেরহয়ে উঠলেন আপনার মধ্যে নিশ্চয় কারুর প্রভাব কাজ করেছে *

আমি স্ব-শিক্ষিত, বটেই। তবে আমার দৃষ্টিও সময়ে সময়ে প্রভাবিত হয়েছে। যুবক বয়সে আমি প্রচুর ছোট গল্প লিখেছি। এমনকি আমেরিকায় সেসবের কয়েকটা পুরষ্কারও জিতেছে। এখনও ক্যামেরার মাধ্যমে আমি আসলে গল্পই বলতে চাই। থিয়েটার আমার আরেকটা ঘর, আমার দ্বিতীয় স্কুল। থিয়েটারের সাথে আমার সখ্যতা বেশ পুরোনো। চলচ্চিত্র আমাকে অনেক দিয়েছে। ক্যামেরার পেছনের মানুষ হিসেবে, আমি যখন একটা জঙ্গল দেখি, তখন কেবল গাছই চোখে পড়েনা, বনের গন্ধ, সতেজ সবুজাভ রঙ-ও আমাকে নাড়া দেয়।

নিজের তোলা পোর্ট্রেটগুলো আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? *

পোর্ট্রেট-এ যেসব শিল্পীদের আমি ধ’রে রেখছি তাদের প্রত্যেককেই আমি ভালবাসি। ফ্রান্সে পিকাসোর বাড়িতে আমি চারদিন কাটিয়েছি। ফিরে আসার আগে তিনি বললেন যে আমার একটি ড্রইং করতে চান। কিন্তু গোটা বাড়ি খুঁজে এক টুকরো শাদা কাগজও পেলেন না। একজন শিল্পী একটা কিছু আকার বিষয়বস্তু পেলেন অথচ কাগজের অভাবে আঁকতে পারছেন না! পরে কি করলেন, একটা বইয়ের শাদা পাতা ছিঁড়ে সেখানে ড্রইং করলেন। সালভাদর দালি’র কথা বলি। প্যারিসে ওর এপার্টমেন্টে ঢোকা মাত্রই ছবির জন্য পোজ দিয়ে বসে পড়লেন। বসার আগে জানালা থেকে একটা পর্দা খুলে নিয়ে এমনভাবে শরীরে জড়িয়ে নিলেন দেখে মনে হল তিনি কোনও এক ডাকাবুকো বীরের ভূমিকায় অভিনয় করতে নামলেন।

আপনার ছবিতে মেঘএকটা বড় ভূমিকা পালন করে মেঘেরা ক্রমাগত স্থানবদল করে করে চলে সেখানে এটা কি স্বগত ভাবেই করেন না কি আয়োজন করেই করা হয়? *

আমি সাজান ছবি তুলিনা। কখনওই না। যা দেখছি যেরকম দেখছি, আমার ছবিও সেরকমই। তবে হ্যা, ‘মেঘ’ আমার ছবির কম্পোজিশনের ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল মানুষ। আমার ছবি মানুষের সংশ্লেষেই ছবি হয়ে ওঠে। আমি যে উঁচু দালানের ছবিটা তুললাম তা ওই দালানকে পেরিয়ে যাওয়া মানুষটির চাইতে কোনওমতেই বড় কিছু নয়।

ইস্তাম্বুল এবং এর বাসিন্দাদের জন্য আপনার আলোকচিত্র কতটা দরকারী বলে মনে করেন? *

বর্তমান সময় এবং হারানো অতীতের সাথে আলোকচিত্রের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। আলোকচিত্রের কিছু ঐন্দ্রজালিক শক্তি রয়েছে, বহুদিন আগে ঘটা ঘটনা যা মানুষ ভুলে বসে আছে তা সে মনে করিয়ে দিতে পারে। ঐতিহাসিক শহর ইস্তাম্বুল তো প্রায় পুরোটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু কেউ চাইলে আমার ছবির পথ ধরে সেই প্রাচীন নগরের সৌরভ ঠিকই খুঁজে পেতে পারেন। আমি পৃথিবীকে ব্যাখা করতে যাই না, আমি কেবল অবলোকন করি। শুধুই দেখে যাই।

আপনার দেওয়া প্রায় সবকটি স্বাক্ষাৎকারেই একটি বিতর্ক সামনে এসেছে, ফটোজার্নালিজম বনাম আর্ট আপনি নিজেকে ফটোসাংবাদিক হিশেবে পরিচয় দিয়ে আসলেও লোকজন আপনাকে একজন শিল্পী হিসেবে ভাবতেই বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করে কেনো? ফটো সাংবাদিকতা কি খারাপ কিছু আর আর্ট ফটোগ্রাফি বেশ মর্যাদা সম্পন কিছু?

প্রথমত; দুটো একেবারেই ভিন্ন আঙ্গিকের, ফটো সাংবাদিকতার সাথে শিল্পের কোনও সংযোগ নেই। ফটোগ্রাফি বিষয়টা ‘শিল্প’ হতে পারে, তবে আমি সেরকম কিছু মনে করি না। ইদানিং একটা ধারা তৈরি হয়েছে, যেমন ধরুন, বিটোফেনের একটা কাজের মতো নতুন ইমপ্রোভাইজড্ কিছু একটা তৈরি হলো, সঙ্গে সঙ্গে ওরা ওটাকে ‘শিল্প’ বা ‘শিল্পী’ নাম দিয়ে দিল। তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়ে কাজ করে কেউ একজন কিভাবে শিল্পী হয়! যেহেতু শিল্পী হতে কোনও ডিগ্রী লাগেনা, ফলে ওটা হওয়াই সবচে সহজ। আসুন, যদি পারেন তো দার্শনিক হয়ে দেখান, একজন পদার্থবিদ, নিদেনপক্ষে একজন ডাক্তার হয়ে দেখান। শিল্পী! আমি শিল্পীদের পছন্দ করিনা। এই যে, এখন যেটা বললাম, সেটা আপনাকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দিল।

আপনি যখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যান লোকজন আপনাকে চিনতে পারে, তারা কি আপনার সাথে কথা বলতে চায়?

নিশ্চয়,এবং এটা খুবই বিরিক্তিকর। তরুণরাও চিনতে পারে কিন্তু জানেন তারা আমাকে কিভাবে চেনে? কি যেন ওটা…ওই যে ০৫২২ না কি যেন নাম বিদিনের সংবাদপত্রে ইলাস্ট্রেশন শিল্পীরা পাতায় নানা ছবি আঁকতো। তখনও ছবি ছাপা হতো না, হাইফেন হাফটোনে আঁকা হতো। যখন ডটেড হাফটোন আবিষ্কার হলো, পত্রিকায় ছবি ছাপা হতে শুরু করলো। এখন দেখুন, গ্যয়া সেই সময়ে রাজা কার্লোস-এর ছবি এঁকেছিলেন। তো, যদি না আঁকতেন তাহলে আমরা বুঝতেই পারতাম না রাজা কার্লোস আসলে দেখতে কেমন ছিলেন। কিন্তু গ্যয়া রাজা কার্লোসের একটা কুৎসিত ছবি কেন আঁকলেন? এখন; হতে পারে, আঁকবার সময় তার মনে হল,‘ধুর, দি-ই বদখত রূপ এঁকে’, যদি এমন হয়ই তাহলে সেটা আমাদের জানার উপায় কি? আলোকচিত্র সবসময়ই সত্য কথা বলে, আর এই জন্যেই এটি কোনওমতেই শিল্প নয়।জ্ঞাপনের ছবিটা, সেটা দিয়ে। আমার বুদ্ধিবৃত্তিক কোনও পরিচয় তাদের জানা নেই, যদিও, আমি তেমন কোনও আঁতেল নইও। এই দুনিয়ায় আমার মতো লক্ষ লক্ষ ফটোসাংবাদিক রয়েছেন। আপনারাই বরং আমাকে অবমূল্যায়িত করছেন, আমি শুধু আমার কাজটাই করে গেছি। আপনি যদি একজন রঙমিস্ত্রি হয়ে থাকেন তাহলে আপনার কাজই হবে দেয়ালগুলো সঠিক উপায়ে সুন্দরভাবে রাঙিয়ে দেওয়া।

কিন্তু আপনি যে শুধু পত্রিকার জন্য ছবি তোলেন তেমন তো নয়,নিজের জন্যও তো তোলেন?

সেটাও জরুরী, শিল্পীরাও…পিকাসো,শাগাল,দালি…শিল্প নিশ্চিতভাবেই মহান কিছু। শিল্পের ক্ষেত্রে ‘বাহ! দারুন তো’ কিংবা হালকা উত্তেজনার কোনও স্থান নেই। (আলোকচিত্রীদের ক্ষেত্রে) কেন্দ্রবিন্দুটি কোথায় হবে, কিভাবে সামগ্রিক বিষয়টি চিত্রে অধিকৃত হবে…এগুলোর উপস্থিতি থাকা জরুরী।

আলোকচিত্র পদ্ধতি আবিষ্কার হওয়ার আগে এর বিকল্প হিশেবে কোন মাধ্যমটি কাজে লাগতো?

শিল্পকর্ম। আগেকার

5c164c229382a8869714df96db88ab85আপনি জন বার্জারের বেশকিছু ছবি তুলেছিলেন তিনি অবশ্য বেশ দার্শনিক একটি উপলব্ধি জানিয়েছেন আপনার আলোকচিত্র বিষয়ে তিনি এর নাম দিয়েছেন স্মৃতি

হুম,তিনি বন্ধুস্থানীয়…‘স্মৃতি’-ই বলেছেন? কি করে সম্ভব, ক’জনকে স্মৃতিতে ধরে রাখা যায়?  আচ্ছা কথাপ্রসঙ্গে বলি, ইগর নামের এক ব্যাক্তি ছিলেন যিনি রাজা কার্লোসকে দেখেছিলেন। এখন ইগর মারা গেলে তার স্মৃতির কি হবে!  যিশুকে অনেকই এঁকেছেন,প্রতিজন যিশুই কি দেখতে এক রকম? এদিক থেকে ইসলাম ধর্ম অনেক চতুর-সাবধানী। এই ধর্ম নবী মোহাম্মদের ছবি আঁকা নিষিদ্ধ করে দিয়েছে, তাতে নিশ্চিতভাবেই কিছু ঝামেলা পরিহার করা গেছে।

কোন কোন অনুঘটকের সমাবেশে একজন যথাযোগ্য আলোকচিত্রী হয়ে উঠতে পারে?

এরকম কোনও অনুঘটক-ই নাই। আলোকচিত্রীদের পক্ষে অতিরঞ্জিত করে দেখানোর কিছুই নেই। আইনস্টাইন শিল্পী নন কিন্তু একজন শিল্পীর চেয়ে অন্তত দশগুণ বেশি প্রয়োজনীয়। মানুষ বেঁচে থাকলে শিল্প তাদের আনন্দিত করে, তাদের বোঝাপড়ার দিগন্ত বিস্তৃত করে, কোনও একটা বিষয়ের উপর আলোকপাতে সাহায্য করে। যদিও তুরষ্কের লোকজন যেকোনও বিষয়ে অর্ধেকটাই বুঝতে সক্ষম, সেটা অবশ্য ভিন্ন বিষয়।

অনুঘটকের সমাবেশ কি প্রয়োজনীয় নয়?

একদমই নয়। কেনইবা হবে! ওটা পিকাসো’র জন্য প্রয়োজনীয় ছিলো…হাজারটা।

হান্ড্রেড ফেসেস অব আওয়ার লিটারেচারশির্ষক প্রদর্শনীর বিষয়ে কিছু শুনি

এখানে যাদের আলোকচিত্র রয়েছে তাদের সবাই-ই স্বনামধন্য, প্রয়োজনীয়। সভ্যতার জন্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু ধরুন,কেবল পিকাসোই কি তার সময়ের একমাত্র দরকারি মানুষ ছিলেন। আমরা এখানে প্রদর্শনীর খাতিরে একশোটি মুখের কথা বলছি, এটা শুনতে ভালো শোনায়। কিন্তু এক তুরষ্কেই আমি তিনশো মুখের কথা জানি যাদের প্রত্যেকেই সাহিত্যের জন্য অপরিহার্য। যেমন ধরুন: সেবগি সয়সাল, ইয়াহইয়া কামাল, চাহিত সিৎকি…কত কত নাম। ক’জনের কথা বলব। সেদিন এক জার্মান তরুনী; লা মঁদে পত্রিকার সাংবাদিক, প্রদর্শনীতে এলো, আমি ঘুরে ঘুরে ছবি দেখাচ্ছিলাম। তিনি প্রদর্শনীর একটি মুখকেও চিনতে পারছেন বলে মনে হলো না, আজিজ নেস্নিন বা নাজিম হিকমত…কাউকেই না!

তিনি যদি এঁদের সম্পর্কে না শুনে থাকেন তবে সেটা কি উনার ভুল?

দেখুন, এটা ইউরোপ। ইউরোপ তার ভূখন্ডে বসবাসকারীদেরকেই সবচে প্রয়োজনীয় বলে মনে করে এবং মনে করায়। এখানে কেউ শেখে না কারন শেখাশেখি নিয়ে কেউ ধার ধারেনা। ঐশ্বর্যমন্ডিত অটোমান সাম্রাজ্য সাতশো বছর ধ’রে ইউরোপ শাসন করেছে, সেই সাতশো বছরের ইতিহাস ব্রিটানিয়া এনসাইক্লোপিডিয়া ১৬ পৃষ্ঠার বর্ণনায় সেরে ফেলেছে, রোমান সাম্রাজ্য টেনেটুনে ১০০ পৃষ্ঠা। কি করার আছে?

আজকের মতো শেষ প্রশ্নটা করি আপনার প্রজন্মের আর কোন আলোকচিত্র শিল্পীর সাথে নিজের একাত্মতা অনুভব করেন? *

সবাইকেই আমি জানি। এদের কেউ একদা বন্ধু ছিলেন, কেউ আছেন। আমার কাছে সবচেয়ে দরকারি ফটো সাংবাদিক মনে হয় ইউজেন স্মিথ। ব্রেসোঁ (হেনরি কার্তিয়ের ব্রেসোঁ) আমার খুব ভাল বন্ধু। যদি ক্যামেরার মাধ্যমে গল্প বলার মধ্যে দিয়ে একজন ফটো সাংবাদিক হওয়া যেত তাহলে ব্রেসোঁ আমাদের সবার চেয়ে এগিয়েই থাকত। এছাড়াও এডওয়ার্ড ওয়েস্টন, সেবাস্তিও সালগাদো, মার্ক রিবঁদ, যোসেফ কুদেলকা প্রমুখ। মাহমুদ আলম সৈকত

——-

12208517_1095963093747134_4494128583499489417_n
মাহমুদ আলম সৈকত

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s