1447161051_thকবিকে বলা হয় ভাষার অধিপতি। ভাষার অনুগামী যে- কোনো শিল্প-শাখায় তাই কবিরা যুগে যুগে যখনই হাত দিয়েছেন, তাদের হাতে সেই শাখা ফুলে-ফসলে আলাদাভাবেই তাৎপর্যময় এক মাত্রায় শোভিত হয়েছে।

প্রসঙ্গসূত্রে আমরা গান, গীতিকবিতার দিকে তাকালেই দেখতে পারি, এক সুদীর্ঘকাল এইখানে ছিল কবিদের একচেটিয়া আধিপত্য। ওরাল ট্র্যাডিশনের বাইরে কবিতাকে যখন লেখ্যরূপে বিরাজ করতে হয়েছে, তখন গানের সাথে কবিদের সেই বাঁধন কিছু শিথিল হলেও আজও একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়নি। বরং গানের কথা নির্মাণে সবসময়ই কবির লেখা উৎকর্ষের দিক দিয়ে বিশিষ্ট। ফলে, ‘কবির লেখা গান’র ব্যাপারে বহুবিধ সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, শৈল্পিক কারণে নকটার্ন বিশেষ মাত্রায় আগ্রহী।

তারই সূত্র ধরে, এই আয়োজন। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা আমরা করবো। আমরা চেষ্টা করবো এমন কিছু লেখার একটা ছোট্ট সংগ্রহ দাঁড় করাতে। এই আয়োজনে প্রকাশিত যে-কোনো লেখাই লেখকের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার আইনগত ভাবেই নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য। এর সকল সত্ত্ব লেখকের।-   নকটার্ন

                              ____________________________________________________

দোজখের গান

রাত্রি আন্ধার, বন্দুকের ঝোপে
টর্চলাইটে জ্বালা ত্রাসিত চোখ
দেখছে মেয়েটার, একলা মেয়েটার,
ওড়না-ছেঁড়া-থ্যাঁতা দেহে দোজখ।

রাস্তাটার ধারে নিহত চোখ জুড়ে
অত্যাচার, ধর্ষণের দাগ;
রাষ্ট্র-রাক্ষস বলাৎকার করে
চলেছে সবকিছু— সর্বভাগ।

সময় দিঠিহীনা, অবশ মনোবীণা
বাজছে দিশাহারা সব তারে
— “বিচার”, “ফাঁসি চাই”— শুনব আর কত?
কি চাই, কার কাছে, করজোড়ে?

বরং ঠিক করো, তুমি কি করবে
ঠেকাতে ধর্ষণ, খুন-তৃষা।
নাকি এখনও বসে, অপেক্ষার বশে
থাকবে বড় হুজুরের আশায়?

ততক্ষণ ধরে অন্ধকার জুড়ে
হত ও বিক্ষত তনুর চোখ
দেখবে আমাদের ভীত ও বিব্রত
ভবিষ্যতহীন দেশে দোজখ।

পার্টি অফিস: ২৮শে মার্চ ২০১৬

 

গলায় আটকে যাওয়া বাতাসের দলা

শ্বাস নেওয়া এতটাই কঠিন গো মা!
গলায় আটকে যাওয়া বাতাসের দলা
ক্রমে ক্রমে জমে জমে নিঃশ্বাসের শিলা—
অত্যাচার-নিতে-নিতে-মরে-যাওয়া যিশুর সমান।

রাবি: ২০শে মার্চ ২০১৬

 

মরা দেহে তাজা দুই চোখ

চোখ দুটো যেন দুই ভিন্ন জানোয়ার—
মরাদেহে শুয়ে-বসে দেখতে থাকে আশপাশ, আকার-বিকার।

মরে গেছে প্যাঁচা, তবু বলকাচ্ছে দৃষ্টির বলক:
দেখছে ডিপ্রেশন, নির্জনতা—
মেলাঙ্কোলির রোগশোক;
দেখছে কিভাবে দেহ মরে গেছে
রেখে দুই চোখ।

রাবি: ১৭ই জানুয়ারি ২০১৬

 

AbstractPainting

ছিন্নসূত্রঃ সম্পর্ক-কুসুম

আমি তাঁর সারারাত-ঘুমের পাহারা।
ঘুমের ভেতরে আমি তাঁর
নিদ্রামগ্ন হয়ে থেকে মেরামত করে চলি ঘুম।
সারাদিন আমি তাঁর খেলার আড়াল-খেলা থেকে
জোড়া দিতে থাকি ছিন্ন সূত্রাবলী, সম্পর্ক-কুসুম।

আমি তাঁর স্বপ্নদৃশ্যে লূতাসুতা বুনতে থাকি স্বভাবস্বপনে;
দুঃস্বপ্নের দান আমি উল্টে দিই আলগোছে,
আলতো আপনে।
তাঁর অজানিতে
ফিসফিস করে আমি তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে
কথা বলি। সম্পাদনা করতে থাকি আমি তাঁর অচেনা রচনা—
গহন-মগন-কনটেক্সট।
তাঁরই সজ্ঞায় লেখা নতুন গণিতে
এনক্রিপ্ট করে চলি আমি নিত্য, সনাতন পথের সঙ্কেত।
কোথাও অসুখ নাই এ জগতে।
অবসুখে, সুখে, অধিসুখে
এই তো ! জীবন বয়ে চলেছে আহেরা।

রাবি: ১৩ই মার্চ ২০১৬

ভয় কেটে যাবে রাস্তায় যদি নামি

 

ভয় কেটে যাবে রাস্তায় যদি নামি
বলছে তোমাকে ডেকে অন্তর্যামী
কেটে যাবে ভয় রাস্তায় যদি নামি

কথা কত আর ঘরে একা বসে বসে !
এবার না হয় একটা কিছুই হোক—
ফের একবার আড্ডা জমাই কষে
গলি-রাজপথে জ্বলুক নব-আলোক।

বন্ধুরা যারা হেঁটেছিলে রাস্তায়
ফিরেছিলে ঘরে, ভেবেছিলে কাজ শেষ
অথচ মৃত্যু — গুম হয়ে যাওয়া ভাই —
ডাকছে তোমায়, পুড়ছে তোমার দেশ।

এত লাশ সব হবে চিরবিস্মৃত?
এত ধর্ষণ, গুম, কারাগার— সব?
লাশ সকল তো চেয়ে আছে রাস্তায়—
বসে আছে স্রেফ তোমার অপেক্ষায়।

মৃতদের সাথে জীবিতের দেখা হলে
কেটে যাবে ভয়— ফিরে যাবে শয়তান।
দেখা হোক তবে পথে— মুক্তাঞ্চলে
দেখা হলে দেখো শুরু হয়ে যাবে গান।

ভয় কেটে যাবে রাস্তায় গান হলে
কেটে যাবে ভয়, শংকার সব স্মৃতি
সব গেয়ে যাব—আলখাল্লার আড়ালের—
চাপাতি কিংবা ক্রসফায়ারের গীতি।

ভয় কেটে যাবে রাস্তায় যদি নামি
ভয় কেটে যাবে রাস্তায় যদি নামি
বলছে তোমাকে ডেকে অন্তর্যামী
কেটে যাবে ভয় রাস্তায় যদি নামি

রাবি: ২৭শে এপ্রিল ২০১৬

11745956_10153512559685522_1633399439777163421_n
সেলিম রেজা নিউটন

……………………..

চিত্র: গুগল আর্কাইভ

1447161051_th

Advertisements