‘ভালোবাসার চল্লিশ নিয়ম’ :: সারওয়ার চৌধুরী

249147_10151721529318185_491360206_n

যতক্ষণ না অবচূর্ণনের রেণু হই….

কোনিয়া, ১২ জুন, ১২৪৫ খৃস্টাব্দ। (আমি শামস তাবরিজি বলছি।) উন্মাতাল ঈমানদার তারা! রমজান মাসে রোজা রাখলেন, কোরবানীর ঈদে ভেড়া জবাই করলেন পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবার উদ্দেশ্যে, জীবনে একবার যদি-বা হজ্বের সুযোগ আসে, তা গেলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেন, কিন্তু এইসব বন্দেগীর সাথে যদি ভালোবাসাবোধ না থাকে, তাহলে ওসব কষ্টের মানে কি? ঈমান একটি শব্দ, ভাষা মাত্র, এর কেন্দ্রে ভালোবাসা না থাকলে, তা নড়বড়ে এবং প্রাণহীন হয়, ফাঁপা ও শূন্যগর্ভ হয় – সত্যিকার কোনো উপলব্ধি এতে আসে না। তারা কি মনে করেন আল্লাহ মক্কা মদীনায় বা কোনো স্থানীয় মসজিদে থাকেন? কেমনে তারা আল্লাহকে কোথাও সীমাবদ্ধ আছেন ভাবেন? (এখানে শামসের ভাষ্য এসেছে ওল্ড টেস্টামেন্ট থেকে, গড বলছেন – ‘নাইদার মাই হেভেন নর মাই আর্থ এমব্রেসেস মি, বাট দ্য হার্ট অব মাই বিলিভিং সার্ভেন্ট ডাজ এমব্রেস মি।’ এই দলিলটা Continue reading “‘ভালোবাসার চল্লিশ নিয়ম’ :: সারওয়ার চৌধুরী”

Advertisements

ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’ এ কবিতার ব্যবহার : দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায় :: সুপ্রভা জুঁই

0[যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী  দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায়ের ইংরেজি লেখা থেকে বাংলায় ভাবানুবাদ]

জয় গোস্বামী তাঁর এক লেখায় বলেছিলেন, লেখক যতটা ভাবেন, আসলে তার খুব কমই তিনি লিখতে পারেন। প্রায় সব লেখকের কাছেই এই কথা শোনা যায়। আমি-ই যে প্রথম এটা আবিষ্কার করলাম তেমন নয়। এটা সকলেরই জানা এবং খুবই সত্য কথা।

একইভাবে একজন মানুষ যতটা কল্পনা করতে পারে তার খুব সামান্যই সে স্মরণ করতে পারে। এইরকম কিছু অনুস্মরণপুস্তকের পুনরাবৃত্তিকরণের মধ্য দিয়ে কবিতার জন্ম হয়। কবিতা নিজেই তাকে সৃষ্টি করে, তার সীমা নির্দেশ করে এবং সেই পরিবেশের সাথে সংঘর্ষ করে।   Continue reading “ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’ এ কবিতার ব্যবহার : দেবায়ুধ চট্টোপাধ্যায় :: সুপ্রভা জুঁই”

আঙুলের ভেতর ঢুকে যাওয়া প্রশস্ত নদী: জর্জ সেফেরিস-এর কবিতা ও সাক্ষাৎকার :: কুমার চক্রবর্তী

images[১৯০০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি  স্মিরনায় স্তেলিয়োস ও দেসপো সেফেরিয়াদিস-এর ঔরসে জর্জ সেফেরিস জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১৪ সালে তিনি তাঁর পরিবারের সাথে স্মিরনা থেকে অ্যাথেন্সে চলে আসেন এবং এখানেই তিনি মাধ্যমিক স্তরের পাঠ সমাপ্ত করেন। ১৯১৮-২৪ পর্যন্ত উচ্চ শিক্ষার্থে তিনি প্যারিসে অবস্থান করেন এবং আইনে ডিগ্রি নেন। ১৯২৬ সালে তিনি গ্রিক পররাষ্ট্র-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চাকরি নেন। এর পর নানা দেশে তিনি তাঁর কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৭-৬২ পর্যন্ত ছিলেন গ্রেট ব্রিটেনে রাষ্ট্রদূত। ১৯৬০ সালে তিনি সাম্মানিক ডক্টর অব লিটারেচারে ভূষিত হন। ১৯৬২ সালে পান ফয়েল পুরস্কার। ১৯৬২ সালে তিনি কূটনৈতিক চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত হন এবং আথেন্সে বসবাস করতে থাকেন।  ১৯৬৩ সালে  তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান, তিনিই প্রথম গ্রিক যিনি এ পুরস্কার পান। ১৯৭১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর  তিনি মারা যান। তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অসংখ্য মানুষের সমাগম হয়, যা অবশেষে স্বৈরশাসক পাপাদোপাউলোস-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রূপ নেয়। উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের ২০ মার্চ স্বৈরশাসক পাপাদোপাউলোসকে নিন্দা জানিয়ে তিনি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। তাঁর কবিতাগ্রন্থগুলো হলো : Mythistorema, Gymnopaidia, Book of Exercises, Logbook-1, Logbook-11, Logbook-111, Turning Point, The Cistern, The Thrush|

Continue reading “আঙুলের ভেতর ঢুকে যাওয়া প্রশস্ত নদী: জর্জ সেফেরিস-এর কবিতা ও সাক্ষাৎকার :: কুমার চক্রবর্তী”

পিটার জুমথর-এর ‘দ্য হার্ডকোর বিউটি’ :: সুপ্রভা জুঁই

[পিটার জুমথর ১৯৪৩ সালের ২৬শে এপ্রিল সুইটজারল্যান্ডের ব্যাসেলে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা অস্কার জুমথর পেশায় ছিলেন একজন cabinet maker। পিটারও ১৯৬২ পর্যন্ত বাবার সাথেই কাজ করেন। এরপরে তিনি ১৯৬৩-৬৭ পর্যন্ত তিনি সেদেশেরই Kunstgewerbeschule বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। পরবর্তীতে ডিজাইন নিয়ে আরো পড়তে চলে আসেন নিউয়র্কের Pratt Institute- এ।১৯৬৭ সালেই পড়া শেষে দেশে ফেরত আসেন এবং সেখানে Department for the Preservation of Monuments  এ ভবন ও পরিকল্পনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিশাবে যোগদান করেন। ফলে তিনি নানা ঐতিহাসিক স্থানের স্থাপনা গবেষণার সুযোগ পান আর সেগুলোর যথাযথ মেরামত ও সংরক্ষণে কাজ করেন।১৯৭৯ সালে তিনি নিজের একটা ফার্ম শুরু করেন যেখানে তিনি এখনো পর্যন্ত পনেরো সদস্যের একটি ছোট্ট দল নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন! দুই নাতি, তিন সন্তান এবং স্ত্রী নিয়ে এখন তিনি সুখী জীবনযাপন করছেন। Continue reading “পিটার জুমথর-এর ‘দ্য হার্ডকোর বিউটি’ :: সুপ্রভা জুঁই”

যতই দূরে যাই ততই কাছে আসো তুমি, দিগন্ত যেখানে, আকাশ ছুঁয়ে দেয় ভূমি : হুয়ান রামোন হিমেনেথ :: মাসুদুজ্জামান

10257

Juan Ramón Jiménez

হিস্পানি কবিতায় মদার্নিসমোর প্রবক্তা রুবেন দারিওর নতুন কাব্য-আন্দোলনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথের কবিতার অন্তর্লীন গহনবিষাদ আর জীবনের উজ্জ্বল বিভায় অভিভূত ছিলেন। তাঁর নিজের কবিতাও হয়ে উঠেছিল আধুনিক মনোজাগতিক সহজ-সরল গহনস্পর্শী কবিতার হিস্পানি নিদর্শন। গীতিকবিতা যে একইসঙ্গে নির্ভার আর গভীর হয়ে উঠতে পারে, হিমেনেথের কবিতা পড়লে আবিষ্কার করা যায় সেই কবিতালোক। হিমেনের জন্ম ১৮৮১ সালে আন্দালুসিয়ার মোগের নামের একটা ছোট্টগ্রামে। আঠারো বছর বয়সে ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম দুটি কবিতার বই। রিরংসা, প্রেমই ছিল সেই কবিতার বৈশিষ্ট্য। এরপর নিজের জন্মভূমিতে বসবাসের সূত্রে লিখলেন ‘প্লাতেরো আর আমি : আন্দালুসিয়ার একটি বিষাদগাথা’ [Platero y yo] কাব্যগ্রন্থের সেই অসামান্য কবিতাগুলি। আন্দালুসিয়ার ল্যান্ডস্কেপ আর দৈনন্দিন কিন্তু রহস্যপূর্ণ জীবনযাপন যেখানে একটি গাধা আর তার সঙ্গী মানুষের রূপকে মরমীভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয়েছে। হিমেনেথের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে ‘মরমী সনেট’, ‘পাথর ও আকাশ’, ‘গদ্য আর কবিতায় পদ্য’, ‘আমার গানের কথা’, ‘সবশেষে প্রাণীদের কথাই বলবো’। ১৯৫৬ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। মৃত্যু ১৯৫৮ সালে। অনলাইনে Project Gutenberg-এ তাঁর প্রায় সব কবিতাই প্রকাশিত হয়েছে। পাঠকেরা সেখান থেকে পড়ে নিতে পারেন। Continue reading “যতই দূরে যাই ততই কাছে আসো তুমি, দিগন্ত যেখানে, আকাশ ছুঁয়ে দেয় ভূমি : হুয়ান রামোন হিমেনেথ :: মাসুদুজ্জামান”