কম্পিত বিন্দুর ধারণা : ক্ষুধার্ত মানুষের ভূগোল :: শামশাম তাজিল

ccচঞ্চল মাহমুদ আমার বন্ধু। আমি তার কবিতার ভক্ত।ব্যক্তি চঞ্চলের ভক্ত না হলেও অনুরাগী তো বটেই, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার পক্ষপাতি। তার  কম্পিত বিন্দুর ধারণা  নিয়ে লেখা এই প্রবন্ধ মোহপ্রবণ। কাজেই লেখকের নির্মোহতার বিচার এখানে অচল না বললেও অকার্যকরী! তাতে কাব্যপ্রেমীদের কবিতার রসাস্বাদনের ঘাটতি হবে না, বরং আশা করাই যায়, বিশুদ্ধতা আর বৈদগ্ধতার চিন্তা মাথায় না রেখে, আবেগের প্রশ্রয় কবিতার স্বাদ গ্রহণের পথকে আরও স্নিগ্ধতা দেবে। প্রশ্রয়াবনত মন কবিতার তুল্যমূল্যতা যথার্থরূপে নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হলেও কবিতাকে উপলব্ধির পথে বাধা হবে না। Continue reading “কম্পিত বিন্দুর ধারণা : ক্ষুধার্ত মানুষের ভূগোল :: শামশাম তাজিল”

Advertisements

আন্তোনিয়োর মেঘ-এর দিকে তাকিয়ে :: আল ইমরান সিদ্দিকী

12661811_1149797075054017_1784065336806206938_nএকুশ শতকের মাত্র ষোলো বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। একুশ শতকের এই প্রভাতবেলায়, এই স্বল্প সময়, অনেকে কবিতা লেখায় মনোযোগী হয়েছেন। সবার কবিতা পড়ার সুযোগ হয়নি আমার। তবু অনেকের কবিতাই পড়েছি। তন্মধ্যে হাতেগোনা যে পাঁচ-সাতজনের কবিতা আমাকে বিশেষভাবে টানে, অমিত চক্রবর্তী তাদেরই একজন। অমিত চক্রবর্তী তার যাপিত জীবনকে সাবলীলভাবে কবিতায় নিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন বিষয়ে আমার আলোচনা পড়ার পর কেউ কেউ যখন শুনেছেন অমিতের কবিতা আমার ভালো লাগে, তখন একটু অবাকই হয়েছেন। অবশ্যই পছন্দ করার পিছে কিছু কারণ আছে। যখন আমরা অস্বীকার করি, তখন আগাগোড়াই অস্বীকার করি। যা-কিছু অস্বীকার করি,  সে-সবের ভিতর থেকে যাওয়া শক্তি আর সৌন্দর্যকে একদমই বিবেচনায় না নিয়েই সেসব অস্বীকার করি।আবার, যখন আমরা অংশবিশেষের সমালোচনা করি, তখন আর কেউ এটাকে ভুল ভাবে নেয়, ধরে নেয় তুমুল অস্বীকার। অমিত চক্রবর্তী’র কবিতায় কিছু বিমূর্তধারার চিত্রকল্প আছে, কিছু পরাবাস্তবধর্মী চিত্রকল্পও আছে।আমার পাঠ-অভিজ্ঞতার কারণে অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে যা দেখি, যা পড়ি, তাতে আমি বেশ ক্লান্ত
Continue reading “আন্তোনিয়োর মেঘ-এর দিকে তাকিয়ে :: আল ইমরান সিদ্দিকী”

কবি জুয়েল মাজহার-এর জন্মদিনে

994302_10200635781431817_1576857488_nটানা তিন রাত ঘুমাতে পারিনি। তিন রাত তিন অচেনা স্থানে। হঠাৎ চিৎকার, মুহূর্তেই নৈঃশব্দ্য। মানুষের চিৎকার, মানুষের নৈঃশব্দ্য। বেশ কয়েকবার খুনি কয়েদির লাল চোখের সামনে প্রার্থনাভঙ্গিতে বসা ও শ্লেটে নিজের নাম লেখার পর তা দু’হাতে উঁচিয়ে আমার মত আরও দর্শককে দেখিয়ে মাঠ পেরোলাম। যেতে যেতে বেশ কয়েক তলাবিশিষ্ট একটি ভবন দেখিয়ে এক প্রহরী বলল : যদি কেউ তোমারে শুধায়, বলবে বকুলে! বকুল সেল, কারাভ্যন্তরের সবাই চেনে। প্রহরী একটি ছোট্ট কক্ষে নিয়ে গেল। এক দুই করে গুনলাম। এগারো শিক। অচেনা একজনকে বলতে শুনলাম, ‘ভাই, আগেরটাতে চৌদ্দ ছিল!’ ছোট্ট একটি জানালাও আছে,তাতে চোখ মেললেই সবুজ-হলুদ ঘাস দেখা যায়। প্রহরী কয়েকটি কম্বল এনে দিল। কম্বলগুলোয় কেমন এক গন্ধ, বহু মানুষের ঘামের, চোখের জলের! ঘরের এক কোনায় সেই কম্বলের ওপর দুই হাঁটু বুকে চেপে শুয়ে পড়লাম। তিন দিন পর। তিন রাত পর। টের পেলাম ‘ঘুমের পোশাক গায়ে’, তবু ঘুম আসছিল না। কাঁপতে কাঁপতে আমিও কয়েক ফোঁটা জল কম্বলে মিশিয়ে দিলাম। সেই জল মিশে গেল অন্যদের জলে। শুষে নিল অভ্যস্ত কম্বল। Continue reading “কবি জুয়েল মাজহার-এর জন্মদিনে”

আমার রবীন্দ্রনাথ :: মৃদুল মাহবুব

tagore-colr১. 

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের রবীন্দ্র-জন্মদিন পালন রাষ্ট্রীয় ভাবেই খুবই জরুরী। মৃত্যু-উপত্যকায় শোক দূরীভূত করার জন্য মাদক আর সঙ্গীতের বিকল্প নাই।

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
তবুওশান্তি ,তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে॥

বিষয়টা অরাজনৈতিক।
‘সোনার বাংলা’ বনাম  ‘ডিজিটাল বাংলা’ যদিও রাজনৈতিক বিষয়ই।

২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়ে আমি খুব বেশি ভাবিত নই। এ্ই না-ভাবনার জন্য আমার সাহিত্য এবং শিল্প-চিন্তা করতে কোন সমস্যাই হয় না।

Continue reading “আমার রবীন্দ্রনাথ :: মৃদুল মাহবুব”

রবি রিগিং :: জাহেদ আহমদ

loushanguanarea_0013অন্যান্য অপারেটর নয়, মার্কেটে এছাড়া আরও অন্তত দশ/বারো অপারেটর রয়েছে যাদের বিজনেস্ বছরভর চলে এবং যারা রাষ্ট্রীয় বহুবিধ রেয়াতি সুবিধাপ্রাপ্ত, প্রতিষ্ঠান ও জনপারিমণ্ডলিক সমর্থন ও মদদে পুষ্ট, সেসব নয়, এই নিবন্ধে কেবল রবি অপারেটর নিয়া আলাপ সঞ্চালিত হতে চলেছে। এর বাইরে যেসব অপারেটর রয়েছে, এর মধ্যে যেমন কাজী অপারেটরের নামোল্লেখ করা যায়, সেসব নিয়া আলাদা সাপ্লি রিলিজের নেসেসিটি নিশ্চয় আছে। এই দুই অপারেটরের কার কত সাবস্ক্রাইবার, ইন্ মিলিয়ন্ গ্রাহকসংখ্যাটা কত অথবা সাবস্ক্রিপ্শন্ অলরেডি বিলিয়ন্ ছাড়ায়ে গেছে কি না, এখানে সেসব তথ্যালোচনা আমরা চালাতে চাইছি না। কাল্ট বলতে যা বোঝায়, ইন্ বেঙ্গলি, লিটারেরি কম্যুনিকেশন্ বিজনেস্ সেক্টরে এরা ফাংশন্যাল্ সমস্ত অর্থেই জায়ান্ট একেকটা কাল্ট। তবে দেশের টেলিকম্যুনিকেশন্ বিজনেসে যেমন বিটিটিবি ছিল মনোপোলি কিছু বছর আগেও, গত দুই দশকে সেখানে অ্যাট লিস্ট আট/নয়টা সার্ভিস্-প্রোভাইডার বাজারে এসেছে, প্রত্যেকেই পৃথক সাবস্ক্রাইবার রেজিম্ গড়ে তুলেছে ছোট-বড়-মাঝারি রেইঞ্জের, একচ্ছত্র বিটিটিবিকে এখন কম্পিট করে যেতে হচ্ছে এদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত। রবিকেও কম্পিট করতে হচ্ছে, কম্পিটিটরদের বিজনেস্ পোর্টফোলিয়োও মোটাতাজা হচ্ছে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যবহ ও সমানুপাতিক স্ট্যাটাসে। এতকিছুর পরেও, রবির কিংবা বিটিটিবির, রাষ্ট্র অথবা সাংস্কৃতিক মোটাগাট্টা প্যাট্রনশিপ্ সত্ত্বেও উভয়ের ব্যবসাগত কোয়ালিটি কিংবা কোয়ান্টিটি ঠিক কোন পজিশনে, এই নিবন্ধে সেসবের উত্তর মিলছে না। সাবস্ক্রাইবারদের স্যাটিসফেকশন্ লেভেলের কোনো জরিপও এখানে করা হচ্ছে না। আপন শক্তিতে জ্বলে ওঠার স্লোগ্যান্ নিয়া বাণিজ্য কতটা ভালো হচ্ছে না-হচ্ছে সেসব কিচ্ছুটিরই ফিরিস্তি এইখানে পাওয়া যাবে না। সাপ্লিমেন্টারি অন্ রবি অপারেটর মুখ্যত এই রচনার সাবটাইট্যল্ হতে পারে। কেবল রবি বিষয়ক কতিপয় আশকথা-পাশকথা, তা-ও গোছানো অতটা না, আর তারচেয়েও অধিক উৎক্ষিপ্তভাবে এসেছে ইমার্জিং নব্য লগ্নিকারক যারা লিটারেরি কম্যুনিকেশন্ ডোমেইনে ক্যারিয়ার বিল্ড-আপ্ করতে চেষ্টাশীল অধুনা, নানাবিধ শ্রমনিষ্ঠ ও শ্রমবিমুখ ফন্দিফিকিরে একটা অ্যাগ্রেসিভ বিজনেসে স্টেইক্ বাগাতে মত্ত যারা, তাদেরে নিয়া কিছু কন্সার্ন। উদ্বেগের কারণ ও ব্যাখ্যাবিস্তারণ মোটেও কোনো গবেষণাসমর্থিত নয়, নিছক মনগড়া, বানোয়াট। মোটামুটি ডিসক্লেইমার এবং ওয়ার্নিং বিসমিল্লায় দিয়ে থুয়ে এগোনো সততাসম্মত। বক্ষ্যমাণ নিবন্ধের যারা সম্ভাব্য দর্শক, অতএব, পোস্টস্ক্রিপ্ট পেরিয়ে ভেতরগলিতে প্রবেশের আগে স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নেবেন নিশ্চয়। Continue reading “রবি রিগিং :: জাহেদ আহমদ”

মোদিয়ানোর মানুষেরা :: রাজ মণ্ডল পায়েল

Patrick-Modiano-les-cinq-chefs-d-oeuvre-du-nouveau-Prix-Nobelনোবেল লরিয়েট, ফ্রেঞ্চ উপন্যাসিক প্যাট্রিক মোদিয়ানোর চৌদ্দতম উপন্যাস হলো, আউট অফ দা ডার্ক। ১৯৯৬-এ প্রথম প্রকাশের পর ফ্রান্স’র পাঠক সমাজে ব্যাপক সাড়া জাগায় এই উপন্যাসটি। মোদিয়ানো তখনো বিশ্বজুড়ে অতো নামকরা কোনো লেখক ছিলেন না। ২০১৪ সালে তার ঝুলিতে নোবেল পুরস্কার পড়লে সারা বিশ্বের সাহিত্য অঙ্গনে সাড়া পড়ে যায়; কেন এক স্বল্প পরিচিত লেখক এই সর্বোচ্চ সম্মান-সূচক পুরস্কার পেলেন! সাহিত্য অঙ্গনে ঝড় ওঠে, বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয় তার কাজ নিয়ে। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে জানার জন্য, মোদিয়ানো কি ফর্মে লেখেন।

মোদিয়ানো একটা সম্পুর্ন নতুন ফর্মে আউট অফ দা ডার্ক লেখেন, যা পাঠকদের কাছে অপরিচিত ছিল। তিনি অসংখ্য চরিত্র বা অনেক খণ্ডিত প্লট ব্যাবহার করে উপ্যনাসকে এগিয়ে নিয়ে যান না। চরিত্রদের অন্তর-জগতের কথা খুব সামান্যই বলেন। তাঁর চরিত্ররা আগাগোড়া বোহেমিয়ান। তাদেরকে দেখা যায় প্যারিসের অথবা লন্ডনের রাস্তায়, ক্যাফে, হোটেলে। আউট অফ দা ডার্কের কোন চরিত্রের স্থায়ী কোন বাসস্থান নেই। Continue reading “মোদিয়ানোর মানুষেরা :: রাজ মণ্ডল পায়েল”

শুভ জন্মদিন, শামসেত তাবরেজী; বাংলা কবিতার ডুবোরাজ :: শিমুল সালাহ্উদ্দিন

967162_10151639880975865_483310329_o

তাবরেজী ভাইয়ের লগে আমার প্রথম দেখা ২০০৮ সালের মার্চ-এপ্রিলের কোন একদিন শাহবাগের বেগম সুফিয়া কামাল গণগ্রন্থাগারের ফুটপাতে। চারুকলার দিক থেকে উনি দৌঁড়ায়া আসতেছিলেন, হাফপ্যান্ট আর গেঞ্জি পইরা, আমি আর পিয়াস (মজিদ) ভাই যাইতেছিলাম মধুর ক্যান্টিনের দিকে। Continue reading “শুভ জন্মদিন, শামসেত তাবরেজী; বাংলা কবিতার ডুবোরাজ :: শিমুল সালাহ্উদ্দিন”