রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান : এক আমর্ম প্রতিসরণের উদ্ভিন্ন হলফনামা :: গৌতম চৌধুরী

borsha1এল-নিনো এল-নিনো করিয়া ঢের শোরগোলের ভিতর আষাঢ়ের শুরুতেই এই বছর দক্ষিণ বাংলায় বৃষ্টি আসিয়া গেল। উত্তরে তো তাহার আগেই বানভাসির দশা। বছর বিশেক আগে অবধি যখনও আকাশবাণীর জমানা টিকিয়া ছিল, তখন এমন বর্ষায়, সেই ‘আবার এসেছে আষাঢ়’ দিয়া শুরু করিয়া, সকাল ৭.৪৫-এর রবীন্দ্রগানের হররোজের গায়ক-গায়িকারা একেবারে ‘বাদলধারা হল সারা’ ইস্তক আমাদের Continue reading “রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান : এক আমর্ম প্রতিসরণের উদ্ভিন্ন হলফনামা :: গৌতম চৌধুরী”

Advertisements

পাঠ্যপুস্তকের ছড়া ও কবিতা

ছবিযে-কোনো বয়সের লোকজন মাঝে মাঝে আড্ডায় মেতে ওঠে ছেলেবেলার ছড়া ও কবিতা স্মরণ করার প্রতিযোগিতায়; এ হলো সুন্দর দিনগুলি নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠা।আমাদের সবার বেড়ে ওঠায়, মানসগঠনে পাঠ্যপুস্তকের ছড়া ও কবিতার যথেষ্ট প্রভাব আছে। শুধু ছড়া বা কবিতাগুলিই নয়, বরং সে-সবের সাথে যুক্ত সাদা-কালো, রঙিন ছবিগুলি চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঝে মাঝে।শব্দ ও তুলিতে ফুটে ওঠা সেই বিচিত্র জগৎ আমাদের কল্পনাকে বারবার উসকে দিয়েছে, কল্পনা করার ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলেছে।স্কুল পার হয়ে আসার পর কেনো শুধুই স্মরণ করা, কেনো কিছু কিছু ছড়া-কবিতা ভুলে যাওয়া! মুখের সামনে সবগুলি একসাথে পেলে হয়তো পড়তে পড়তে মনে পড়ে যাবে ছেলেবেলার আরও অনেক অনেক স্মৃতি; রং-রূপ-রসের এক আশ্চর্য জগৎ ঘুরে আসা যাবে। এখানে প্রকাশ করা হলো অল্প কিছু লেখা; এগুলি পড়তে পড়তে মনে পড়ার খেলায় যদি আরও কিছু কবিতার নাম পাওয়া যায়, তবে ‘নকটার্ন’ সেগুলিও সংযুক্ত করবে এই পোষ্টে। এই ছড়া-কবিতাগুলি পাঠের ভিতর দিয়ে হয়তো আমরা আমাদের মানসগঠনে এ-সবের প্রভাবকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে পারবো, হয়তো আরও অনেক রকম চিন্তাকে উসকে দেবে এই ছোট্ট প্রয়াস।যারা লেখালেখির সাথে যুক্ত, তারা বাংলা ভাষার নিজস্ব সুর-ছন্দকে আরও গভীর ভাবে চিহ্নিত করতে পারবেন, যখন আমরা অনুবাদের ভাষায় বাংলা কবিতা লিখতে বসেছি।- নকটার্ন

…………………………………………………………………………………………………………

Continue reading “পাঠ্যপুস্তকের ছড়া ও কবিতা”

‘ভাষা’ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’র ৪টি লেখা

Untitled

ভাষা-শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকতা

সর্বপ্রথমে বলে রাখি আমার স্বভাবে এবং ব্যবহারে হিন্দু-মুসলমানের দ্বন্দ্ব নেই। দুই পক্ষেরই অত্যাচারে আমি সমান লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ হই এবং সে রকম উপদ্রবকে সমস্ত দেশেরই অগৌরব বলে মনে করে থাকি।
ভাষামাত্রেরই একটা মজ্জাগত স্বভাব আছে, তাকে না মানলে চলে না। স্কটল্যাণ্ডের ও ওয়েল্‌সের লোকে সাধারণত আপন স্বজন-পরিজনের মধ্যে সর্বদাই যে-সব শব্দ ব্যবহার করে থাকে তাকে তারা ইংরেজি ভাষার মধ্যে চালাবার চেষ্টামাত্র করে না। তারা এই সহজ কথাটি মেনে নিয়েছে যে, যদি তারা নিজেদের অভ্যস্ত প্রাদেশিকতা ইংরেজি ভাষায় ও সাহিত্যে চালাতে চায় তা হলে ভাষাকে বিকৃত ও সাহিত্যকে উচ্ছৃঙ্খল করে তুলবে। কখনো কখনো কোনো স্কচ লেখক স্কচ ভাষায় কবিতা প্রভৃতি লিখেছেন কিন্তু সেটাকে স্পষ্টত স্কচ ভাষারই নমুনা স্বরূপে স্বীকার করেছেন। অথচ স্কচ ও ওয়েল্‌স ইংরেজের সঙ্গে এক নেশনের অন্তর্গত।
আয়ারল্যাণ্ডে আইরিশে-ব্রিটিশে ব্ল্যাক অ্যাণ্ড ট্যান নামক বীভৎস খুনোখুনি ব্যাপার চলেছিল কিন্তু সেই হিংস্রতার উত্তেজনা ইংরেজি ভাষার মধ্যে প্রবেশ করে নি। সেদিনও আইরিশ কবি ও লেখকেরা যে ইংরেজি ব্যবহার করেছেন সে অবিমিশ্র ইংরেজিই।
ইংরেজিতে সহজেই বিস্তর ভারতীয় ভাষার শব্দ চলে গেছে। একটা দৃষ্টান্ত jungle– সেই অজুহাতে বলা চলে না, তবে কেন অরণ্য শব্দ চালাব না! ভাষা খামখেয়ালি, তার শব্দ-নির্বাচন নিয়ে কথা-কাটাকাটি করা বৃথা।

Continue reading “‘ভাষা’ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’র ৪টি লেখা”

যে গান বুলেট গান :: অমল আকাশ

Gaddar_in_a_meeting_in_Nizam_College_Grounds-_2005গদরকে সামনা সামনি দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার মুম্বাইয়ে। ২০০৪ সালের ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারি ‘মুম্বাই রেজিস্টেন্স’ সম্মেলনের মূল মঞ্চের তিনিই ছিলেন প্রধান সঞ্চালক। যাওয়ার আগেই শুনেছিলাম তিনি অন্ধ্রের  কিংবদন্তী সমতূল্য গণসংগীত শিল্পী। যার গান শুনতে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাবেশ হয়ে যায়। ফলে আমার বিশেষ আগ্রহ ছিলো গদরের পরিবেশনা দেখার। কি এমন যাদু আছে তাদের গানে!  আমাদের এখানে গণসংগীত তো প্রায় জাদুঘরে ঠাঁই করে নিয়েছে।

১৯ জানুয়ারি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন ছিল বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, দেশ থেকে আসা দলগুলোর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সেদিন সকাল থেকে গদর উপস্থাপনার দায়িত্ব নিলেন এবং চালিয়ে গেলেন রাত নয়টা দশটা পর্যন্ত। জননাট্য মন্ডলীর হয়ে নিজেও গান গাইলেন। কিন্তু সেকি গান গাওয়া! এতো আমাদের গম্ভীরা গানের সাথে মিলে যাচ্ছে। আবার যখন হাসি ঠাট্টা কৌতুক করছেন তখন আমাদের সঙপালার কথাও মনে হচ্ছে। গদর হচ্ছেন মূল শিল্পী, তার সাথে আরো কয়েকজন আছেন, যারা কোরাসে অংশগ্রহণ করছেন, নৃত্য করছেন এবং গদরের সাথে অভিনয়ে অংশগ্রহণ করছেন। অভিনয় বলতে, মূলত কোন একটা বিষয়ে কেউ হয়তো জোতদারের চরিত্রে ডায়লগ দিচ্ছেন, গদর মজদুরের চরিত্রে উত্তর দিচ্ছেন। সে সময়কার শারীরিক অভিব্যক্তি তারা অভিনয়ের আঙ্গিকে পরিবেশন করছেন। আবার গদর গানের ফাঁকে ফাঁকে বিষয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে দর্শকের মুখ থেকে কোন একটি প্রশ্নের উত্তর বের করে নেবার চেষ্টা করছেন। অথবা কোন একটা সুর হাজার হাজার দর্শক একসাথে গদরের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে নিচ্ছেন।   Continue reading “যে গান বুলেট গান :: অমল আকাশ”

চণ্ডীদাস দেখে যুগ যুগ :: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

       marx_1272963216_1-bid

 ১.

বাংলার জাতীয়-কবি নির্বাচনে রবীন্দ্রনাথের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন চণ্ডীদাস; আর, ভোটাধিকার সর্বজনীন হ’লে, আমার বিশ্বাস, চণ্ডীদাসই হবেন নির্বাচিত। অবশ্য এই সর্বব্যাপী জনপ্রিয়তাকে অধিকাংশ সাহিত্যালোচকই একটা ঋণাত্মক গমনবিন্দু বিবেচনা করতে পারেন, এবং তা, অনেকটাই, সঙ্গত কারণেই। কেননা, আমাদের হয়তো অবিদিত নয় যে, আজও ‘আপামর’ বাঙালি কাব্যভোক্তৃসমাজে গীতাঞ্জলি  অপেক্ষা “মনসার ভাসান” অনেক বেশি জনপ্রিয়; জনপ্রিয় জীবনানন্দের চেয়ে নজরুল। এ-ধরনের উদাহরণে অন্ততঃ এটা প্রমাণিত হয় যে লোকপ্রিয়তাই কবিতার উৎকর্ষের মানদণ্ড নয়— বরং, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই, উল্টাটাই বেশি সত্য। পারতপক্ষে প্রায় কোনো লোকপ্রিয় কবিতাকেই আমরা সন্দেহমুক্ত দৃষ্টিতে দেখতে পারি না। কিন্তু এমতো নজিরও বাড়ন্ত নয় যে একই কবিতা একাধারে লোকপ্রিয় ও উৎকৃষ্ট; এবং এর উল্টাটা, অর্থাৎ একাধারে লোক-অপ্রিয় ও অপকৃষ্ট কবিতার নমুনা তো, বলা বাহুল্য, ভূরিভূরি। মানে, কবিতার উৎকর্ষের নিরিখ লোকপ্রিয়তা যদিচ নয়, তবু, মাঝেসাঝে কোনো-কোনো উৎকৃষ্ট কবিতাকেও লোকপ্রিয় হ’তে দেখা যায়, এবং সাহিত্যের ব্যাকরণে সেটা স্বতঃসিদ্ধ না-হ’লেও, নিপাতনে সিদ্ধ তো বটেই। প্রায় সমগ্র বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যই এর পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। ন্যূনাধিক পাঁচ-শতাব্দী-ব্যাপ্ত বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্যের ধারায় এ-ব্যতিক্রম প্রায় একটা নিয়মেই পরিণত হ’য়ে গিয়েছে বলা যায়। বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, যদুনন্দন, মাধব দাস, লোচন দাস, রায় শেখর, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস, বৃন্দাবন দাস, নরোত্তম দাস, বলরাম দাস, নরহরি, জগদানন্দ, রাধামোহন, সৈয়দ মর্তুজা— এই তালিকাকে আরও অনেক লম্বা করা সম্ভব— এঁরা সবাই, পর্যায়ক্রমে, উপর্যুক্ত ব্যতিক্রমের অঙ্কগত। বস্তুতঃ আর-কোনো ধারাতেই এতদধিক জনপ্রিয় এবং উৎকৃষ্ট কবি মিলবে কীনা সন্দেহ। এঁদের মধ্যে চণ্ডীদাস আবার বৃহত্তম ব্যতিক্রম।

Continue reading “চণ্ডীদাস দেখে যুগ যুগ :: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ”

পরমার্থের ভিড়ে নিঃসঙ্গ রসাতল :: পিয়াস মজিদ

5958704672_80204059af_z
 প্রেম এসেছিল জাহাজে চড়ে জাহাজের গায়ে আঁকা ছিল
বিচিত্র বর্ণের পরাবাস্তব ছবি রূপকথার যত্তেসব মিথ্যে কথার আতসবাজি
মায়াবিনী পরীর বরফের ডানা মুখোশ পড়া ডাকাতের দল বাহিনী শুকনো
সৌরভ ভরা ছিল মুখ- বাঁধা চটের বস্তায়।

(অথঃপ্রেম কাহিনী)

ব্যবহারে ব্যবহারে শুয়োরের মাংস হয়ে যাওয়া ‘তুমি, আমি’ সর্বস্ব প্রেমকাব্যের প্লাবনের বিপ্রতীপে যে কবি এমন হিংস্র- ভয়াল স্বরূপে আঁকতে পারেন প্রেমের ছবি, বাংলা কবিতায় তাকে একটু ফিরে দেখার অবকাশ আছে। তিনি Continue reading “পরমার্থের ভিড়ে নিঃসঙ্গ রসাতল :: পিয়াস মজিদ”