হেনরি কার্তিয়ের ব্রেসোঁ’র সাক্ষাৎকার :: অনুবাদ: মাহমুদ আলম সৈকত

downloadহেনরি কার্তিয়ের ব্রেসোঁ (১৯০৮ – ২০০৪)। ৩৫সস ফিল্ম যুগের স্বনামধন্য ফরাসী আলোকচিত্রশিল্পী। স্ট্রিট ফটোগ্রাফি-জগতের নমস্য, পথ প্রদর্শক। ফটোগ্রাফি ভিত্তিক আন্তর্জাাতিক সংস্থা Magnum Photos -এর অন্যতম সংগঠক। পরাবাস্তববাদী ধারার শিল্পী, লুই আরাগঁ, আন্দ্রে ব্রিটনদের সহযোগী। আলোকচিত্র বিষয়ে বেশ খুঁতখুঁতে স্বভাবের ছিলেন, জীবনে একটি ছবিও তোলেন নি ফ্ল্যাশ ব্যবহার করে! বিশ্বাস করতেন, একটি ছবি তৈরী হয়ে ওঠে ভিউফাইন্ডারে, ডার্করুমে নয়। বর্ণিল রঙের প্রতি এক দুর্বোধ্য অনাস্থা সারাজীবন বয়ে বেরিয়েছেন ব্রেসোঁ, ফলে সাদা-কালোই তাঁর ছবির ভাষা। নিভৃতচারী, স্বল্পভাষী, প্রচারের আলোকে চিরকাল ভয় পাওয়া মানুষ এই ব্রেসোঁ। স্ট্রিট ফটোগ্রাফির পাশাপাশি আগ্রহ ছিলো পোর্ট্রটে-এ। পেইন্টিং-এ মজেছিলেন, পছন্দের মাধ্যম ছিল তৈলচিত্র। রেনেসাঁ যুগের মহান শিল্পীদের কাজ দ্বারা হয়েছেন দারুণ প্রভাবিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফরাসী বাহিনীর ফিল্ম এন্ড ফটো  বিভাগে কর্পোরাল হিসেবে কাজ করেছেন। মহাত্মা গান্ধী, সিমন দ্য বুভোয়া, জাঁ পল সার্ত্রে, স্যামুয়েল বাকেট, আলবেয়ার কামু, মার্চেল দুশাম্প, Continue reading “হেনরি কার্তিয়ের ব্রেসোঁ’র সাক্ষাৎকার :: অনুবাদ: মাহমুদ আলম সৈকত”

Advertisements

যৌবরাজিক পদাবলি :: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

 

painting-232কবিকে বলা হয় ভাষার অধিপতি। ভাষার অনুগামী যে- কোনো শিল্প-শাখায় তাই কবিরা যুগে যুগে যখনই হাত দিয়েছেন, তাদের হাতে সেই শাখা ফুলে-ফসলে আলাদাভাবেই তাৎপর্যময় এক মাত্রায় শোভিত হয়েছে।

প্রসঙ্গসূত্রে আমরা গান, গীতিকবিতার দিকে তাকালেই দেখতে পারি, এক সুদীর্ঘকাল এইখানে ছিল কবিদের একচেটিয়া আধিপত্য। ওরাল ট্র্যাডিশনের বাইরে কবিতাকে যখন লেখ্যরূপে বিরাজ করতে হয়েছে, তখন গানের সাথে কবিদের সেই বাঁধন কিছু শিথিল হলেও আজও একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়নি। বরং গানের কথা নির্মাণে সবসময়ই কবির লেখা উৎকর্ষের দিক দিয়ে বিশিষ্ট। ফলে, ‘কবির লেখা গান’র ব্যাপারে বহুবিধ সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, শৈল্পিক কারণে নকটার্ন বিশেষ মাত্রায় আগ্রহী। Continue reading “যৌবরাজিক পদাবলি :: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ”

কার্লোস ফুয়েন্তেস’র সাক্ষাৎকার :: ভাষান্তর : অজিত দাশ

[ কার্লোস ফুয়েন্তেস (১৯২৮-২০১২) স্পেনীয় ভাষা সাহিত্যের জগতে কালজয়ী কথা সাহিত্যিক। ১৯৮০ দশকের আগে পর্যন্ত ফুয়েন্তেস-এর খ্যাতি ও প্রচার ছিল স্পেনীয় ভাষাভাষী দেশগুলিতেই সীমাবদ্ধনিয়ইয়র্ক শহরের সুখ্যাত “প্যারিস রিভিউ” সাহিত্যপত্রিকা তাঁর একটি গভীর, মননশীল ও সুদীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছিলেন। বলতে গেলে, ইংরেজিভাষী সুধী পাঠকদের কাছে তাঁর প্রথম ও বিস্তৃত আত্মপ্রকাশ। ধ্রুপদী সাহিত্যিকরাই তাঁর প্রিয় এবং পথপ্রদর্শক; ফরাসি কথাসাহিত্যিক মার্সেল প্রুস্ত তাঁর জীবনের ধ্রুবতারা। তার প্রথম উপন্যাস  লা রেহিওন মাস ত্রান্‌সপারেন্তে” অর্থাৎ “যে অঞ্চলে আকাশ পরিষ্কার” প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ সালেফুয়েন্তেসর বয়স তখনও তিরিশ ছোঁয়নি। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সফলতা লাভ করে। তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস “লাস বুয়েনাস কনসিয়েনসিয়াস” (“উত্তম বিবেক”) আকারে ছোট ১৫০ পৃষ্ঠা এবং অনেকের মতে প্রথাসিদ্ধ মার্কসবাদী এই উপন্যাসে লেখকের রচনাশৈলির বৈচিত্রের প্রকাশ ঘটে। লেখকের কালজয়ী, রূপকাত্মক উপন্যাস “লা মুয়ের্তে দে আর্তেমিও ক্রুস” (“আর্তেমিও ক্রুসের মৃত্যু”) প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। আধুনিক লাতিন আমেরিকার সাহিত্যের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় গ্রন্থ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উপন্যাসটি অনেক জনপ্রিয় হয়েছে। উপন্যাসটির আংশিক অনুপ্রেরণা অরসন ওয়েলস পরিচালিত সুখ্যাত চলচ্চিত্র “নাগরিক কেইন” (“সিটিজেন কেইন“)চলচ্চিত্রের অনেক কলাকৌশলের ব্যবহার রয়েছে উপন্যাসটিতে। ফুয়েন্তেসের উপন্যাস দ্যা ওল্ড গ্রিংগো ইংরেজী ভাষায় অনুদিত হলে মার্কিন বেস্ট সেলারের তালিকায় স্থান পায়।  জীবনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন সক্রিয়, মুখর। ১৫ই মে তাঁর মৃত্যুর দিনেই রিফর্মাসংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় ফ্রান্সের নতুন সরকার ও তাঁর সমাজতন্ত্রী নেতার বিষয়ে লেখকের প্রবন্ধ।  ফুয়েন্তেসের নাম গত এক দশক ধরে নোবেল বিষয়ে জল্পনা-কল্পনার শীর্ষে থাকলেও  শেষ পর্যন্ত নোবেল পুরস্কার পাননি তিনি।]   Continue reading “কার্লোস ফুয়েন্তেস’র সাক্ষাৎকার :: ভাষান্তর : অজিত দাশ”

দোজখের গান অথবা তনুর জন্য এপিটাফ :: সেলিম রেজা নিউটন

কবিকে বলা হয় ভাষার অধিপতি। ভাষার অনুগামী যে- কোনো শিল্প-শাখায় তাই কবিরা যুগে যুগে যখনই হাত দিয়েছেন, তাদের হাতে সেই শাখা ফুলে-ফসলে আলাদাভাবেই তাৎপর্যময় এক মাত্রায় শোভিত হয়েছে।

প্রসঙ্গসূত্রে আমরা গান, গীতিকবিতার দিকে তাকালেই দেখতে পারি, এক সুদীর্ঘকাল এইখানে ছিল কবিদের একচেটিয়া আধিপত্য। ওরাল ট্র্যাডিশনের বাইরে কবিতাকে যখন লেখ্যরূপে বিরাজ করতে হয়েছে, তখন গানের সাথে কবিদের সেই বাঁধন কিছু শিথিল হলেও আজও একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়নি। বরং গানের কথা নির্মাণে সবসময়ই কবির লেখা উৎকর্ষের দিক দিয়ে বিশিষ্ট। ফলে, ‘কবির লেখা গান’র ব্যাপারে বহুবিধ সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, শৈল্পিক কারণে নকটার্ন বিশেষ মাত্রায় আগ্রহী।

তারই সূত্র ধরে, এই আয়োজন। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা আমরা করবো। আমরা চেষ্টা করবো এমন কিছু লেখার একটা ছোট্ট সংগ্রহ দাঁড় করাতে। এই আয়োজনে প্রকাশিত যে-কোনো লেখাই লেখকের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার আইনগত ভাবেই নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য। এর সকল সত্ত্ব লেখকের।-   নকটার্ন Continue reading “দোজখের গান অথবা তনুর জন্য এপিটাফ :: সেলিম রেজা নিউটন”

আমার রবীন্দ্রনাথ :: মৃদুল মাহবুব

tagore-colr১. 

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের রবীন্দ্র-জন্মদিন পালন রাষ্ট্রীয় ভাবেই খুবই জরুরী। মৃত্যু-উপত্যকায় শোক দূরীভূত করার জন্য মাদক আর সঙ্গীতের বিকল্প নাই।

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে।
তবুওশান্তি ,তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে॥

বিষয়টা অরাজনৈতিক।
‘সোনার বাংলা’ বনাম  ‘ডিজিটাল বাংলা’ যদিও রাজনৈতিক বিষয়ই।

২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়ে আমি খুব বেশি ভাবিত নই। এ্ই না-ভাবনার জন্য আমার সাহিত্য এবং শিল্প-চিন্তা করতে কোন সমস্যাই হয় না।

Continue reading “আমার রবীন্দ্রনাথ :: মৃদুল মাহবুব”

রবি রিগিং :: জাহেদ আহমদ

অন্যান্য অপারেটর নয়, মার্কেটে এছাড়া আরও অন্তত দশ/বারো অপারেটর রয়েছে যাদের বিজনেস্ বছরভর চলে এবং যারা রাষ্ট্রীয় বহুবিধ রেয়াতি সুবিধাপ্রাপ্ত, প্রতিষ্ঠান ও জনপারিমণ্ডলিক সমর্থন ও মদদে পুষ্ট, সেসব নয়, এই নিবন্ধে কেবল রবি অপারেটর নিয়া আলাপ সঞ্চালিত হতে চলেছে। এর বাইরে যেসব অপারেটর রয়েছে, এর মধ্যে যেমন কাজী অপারেটরের নামোল্লেখ করা যায়, সেসব নিয়া আলাদা সাপ্লি রিলিজের নেসেসিটি নিশ্চয় আছে। এই দুই অপারেটরের কার কত সাবস্ক্রাইবার, ইন্ মিলিয়ন্ গ্রাহকসংখ্যাটা কত অথবা সাবস্ক্রিপ্শন্ অলরেডি বিলিয়ন্ ছাড়ায়ে গেছে কি না, এখানে সেসব তথ্যালোচনা আমরা চালাতে চাইছি না। কাল্ট বলতে যা বোঝায়, ইন্ বেঙ্গলি, লিটারেরি কম্যুনিকেশন্ বিজনেস্ সেক্টরে এরা ফাংশন্যাল্ সমস্ত অর্থেই জায়ান্ট একেকটা কাল্ট। তবে দেশের টেলিকম্যুনিকেশন্ বিজনেসে যেমন বিটিটিবি ছিল মনোপোলি কিছু বছর আগেও, গত দুই দশকে সেখানে অ্যাট লিস্ট আট/নয়টা সার্ভিস্-প্রোভাইডার বাজারে এসেছে, প্রত্যেকেই পৃথক সাবস্ক্রাইবার রেজিম্ গড়ে তুলেছে ছোট-বড়-মাঝারি রেইঞ্জের, একচ্ছত্র বিটিটিবিকে এখন কম্পিট করে যেতে হচ্ছে এদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত। রবিকেও কম্পিট করতে হচ্ছে, কম্পিটিটরদের বিজনেস্ পোর্টফোলিয়োও মোটাতাজা হচ্ছে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যবহ ও সমানুপাতিক স্ট্যাটাসে। এতকিছুর পরেও, রবির কিংবা বিটিটিবির, রাষ্ট্র অথবা সাংস্কৃতিক মোটাগাট্টা প্যাট্রনশিপ্ সত্ত্বেও উভয়ের ব্যবসাগত কোয়ালিটি কিংবা কোয়ান্টিটি ঠিক কোন পজিশনে, এই Continue reading “রবি রিগিং :: জাহেদ আহমদ”

মোদিয়ানোর মানুষেরা :: রাজ মণ্ডল পায়েল

Patrick-Modiano-les-cinq-chefs-d-oeuvre-du-nouveau-Prix-Nobelনোবেল লরিয়েট, ফ্রেঞ্চ উপন্যাসিক প্যাট্রিক মোদিয়ানোর চৌদ্দতম উপন্যাস হলো, আউট অফ দা ডার্ক। ১৯৯৬-এ প্রথম প্রকাশের পর ফ্রান্স’র পাঠক সমাজে ব্যাপক সাড়া জাগায় এই উপন্যাসটি। মোদিয়ানো তখনো বিশ্বজুড়ে অতো নামকরা কোনো লেখক ছিলেন না। ২০১৪ সালে তার ঝুলিতে নোবেল পুরস্কার পড়লে সারা বিশ্বের সাহিত্য অঙ্গনে সাড়া পড়ে যায়; কেন এক স্বল্প পরিচিত লেখক এই সর্বোচ্চ সম্মান-সূচক পুরস্কার পেলেন! সাহিত্য অঙ্গনে ঝড় ওঠে, বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয় তার কাজ নিয়ে। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে জানার জন্য, মোদিয়ানো কি ফর্মে লেখেন।

মোদিয়ানো একটা সম্পুর্ন নতুন ফর্মে আউট অফ দা ডার্ক লেখেন, যা পাঠকদের কাছে অপরিচিত ছিল। তিনি অসংখ্য চরিত্র বা অনেক খণ্ডিত প্লট ব্যাবহার করে উপ্যনাসকে এগিয়ে নিয়ে যান না। চরিত্রদের অন্তর-জগতের কথা খুব সামান্যই বলেন। তাঁর চরিত্ররা আগাগোড়া বোহেমিয়ান। তাদেরকে দেখা যায় প্যারিসের অথবা লন্ডনের রাস্তায়, ক্যাফে, হোটেলে। আউট অফ দা ডার্কের কোন চরিত্রের স্থায়ী কোন বাসস্থান নেই। Continue reading “মোদিয়ানোর মানুষেরা :: রাজ মণ্ডল পায়েল”