পাঠ্যপুস্তকের ছড়া ও কবিতা

ছবিযে-কোনো বয়সের লোকজন মাঝে মাঝে আড্ডায় মেতে ওঠে ছেলেবেলার ছড়া ও কবিতা স্মরণ করার প্রতিযোগিতায়; এ হলো সুন্দর দিনগুলি নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠা।আমাদের সবার বেড়ে ওঠায়, মানসগঠনে পাঠ্যপুস্তকের ছড়া ও কবিতার যথেষ্ট প্রভাব আছে। শুধু ছড়া বা কবিতাগুলিই নয়, বরং সে-সবের সাথে যুক্ত সাদা-কালো, রঙিন ছবিগুলি চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঝে মাঝে।শব্দ ও তুলিতে ফুটে ওঠা সেই বিচিত্র জগৎ আমাদের কল্পনাকে বারবার উসকে দিয়েছে, কল্পনা করার ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলেছে।স্কুল পার হয়ে আসার পর কেনো শুধুই স্মরণ করা, কেনো কিছু কিছু ছড়া-কবিতা ভুলে যাওয়া! মুখের সামনে সবগুলি একসাথে পেলে হয়তো পড়তে পড়তে মনে পড়ে যাবে ছেলেবেলার আরও অনেক অনেক স্মৃতি; রং-রূপ-রসের এক আশ্চর্য জগৎ ঘুরে আসা যাবে। এখানে প্রকাশ করা হলো অল্প কিছু লেখা; এগুলি পড়তে পড়তে মনে পড়ার খেলায় যদি আরও কিছু কবিতার নাম পাওয়া যায়, তবে ‘নকটার্ন’ সেগুলিও সংযুক্ত করবে এই পোষ্টে। এই ছড়া-কবিতাগুলি পাঠের ভিতর দিয়ে হয়তো আমরা আমাদের মানসগঠনে এ-সবের প্রভাবকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে পারবো, হয়তো আরও অনেক রকম চিন্তাকে উসকে দেবে এই ছোট্ট প্রয়াস।যারা লেখালেখির সাথে যুক্ত, তারা বাংলা ভাষার নিজস্ব সুর-ছন্দকে আরও গভীর ভাবে চিহ্নিত করতে পারবেন, যখন আমরা অনুবাদের ভাষায় বাংলা কবিতা লিখতে বসেছি।- নকটার্ন

…………………………………………………………………………………………………………

Continue reading “পাঠ্যপুস্তকের ছড়া ও কবিতা”

Advertisements

সদ্‌গুরু প্রসঙ্গে ওশো এবং কবির :: অনুবাদ : তোরিফা নাজমিনা মণি

এই লেখাটি কবিরের দুটো গান নিয়ে রজনীশ ওশো’র আলোচনা। আসুন লেখাটি পড়ার আগে সংক্ষেপে কবির সম্পর্কে দুটো কথা জানা যাক। কবির ১৫ শতকের একজন ভারতীয় মরমি কবি এবং সন্ত। যাঁর লেখা হিন্দু ভক্তিগীতিকে প্রভাবিত করেছে এবং তাঁর শ্লোক শিখ ধর্মের আদি গ্রন্থে পাওয়া যায়। শোনা যায় তাঁর জন্ম মুসলিম পরিবারে, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তাঁর গুরু রামানন্দ দ্বারা অত্যন্ত প্রভাবিত ছিলেন। অনেকে এও দাবী করেন যে তাঁর জন্ম মুসলিম পরিবারে হতেই পারে না। তাঁর জীবিত কালে অধ্যাত্মবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তিনি হিন্দু এবং মুসলিম উভয়েরই অপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর আবার হিন্দু Continue reading “সদ্‌গুরু প্রসঙ্গে ওশো এবং কবির :: অনুবাদ : তোরিফা নাজমিনা মণি”

আলোকচিত্র সবসময়ই সত্য কথা বলে, আর এই জন্যেই এটি কোনওমতেই শিল্প নয় : আরা গুলের :: মাহমুদ আলম সৈকত

s-d9ccdb767c2d70e0d4eb918191456f26675f5ba8jpgআরা গুলের বিখ্যাত তুর্কি আলোকচিত্রী অর্ধশতাব্দী জুড়ে তাঁর কর্মযজ্ঞ তিনি ফটো সাংবাদিক না কি আলোকচিত্রী শিল্পী, এই দ্বন্দ বহুচর্চিত নিজেই জিইয়ে রেখেছেন, আর তার ভক্তদের মধ্যে তৈরী করে দিয়েছেন এক আশ্চর্য ঘোর ভীষন মর্জিমাফিক চলা মানুষ, আলটপকা কথায় পর্যুদস্ত করেন শ্রোতাদের প্রথমপাঠে মনে হতে পারে, এসবই অসংলগ্ন কথামালা কিন্তু যতই পাঠক অনুধাবনের চর্চায় যাবেন, ধরতে পারবেন তাঁর অন্তর্গত কথার অনুরণন একই ভাবনা ভাবছেন তিনি; তার ছবির জন্য, জীবনযাপনের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য, দর্শনের জন্য ফলে অনবদ্য এই পাঠ আগ্রহী আলোকচিত্রীদের জন্য যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি শিল্পবোদ্ধা বা অপরাপর মাধ্যমের চিন্তাশীল ব্যক্তির জন্যও সমানভাবে ক্রিয়াশীল Continue reading “আলোকচিত্র সবসময়ই সত্য কথা বলে, আর এই জন্যেই এটি কোনওমতেই শিল্প নয় : আরা গুলের :: মাহমুদ আলম সৈকত”

শুভ জন্মদিন, শামসেত তাবরেজী; বাংলা কবিতার ডুবোরাজ :: শিমুল সালাহ্উদ্দিন

967162_10151639880975865_483310329_o

তাবরেজী ভাইয়ের লগে আমার প্রথম দেখা ২০০৮ সালের মার্চ-এপ্রিলের কোন একদিন শাহবাগের বেগম সুফিয়া কামাল গণগ্রন্থাগারের ফুটপাতে। চারুকলার দিক থেকে উনি দৌঁড়ায়া আসতেছিলেন, হাফপ্যান্ট আর গেঞ্জি পইরা, আমি আর পিয়াস (মজিদ) ভাই যাইতেছিলাম মধুর ক্যান্টিনের দিকে। Continue reading “শুভ জন্মদিন, শামসেত তাবরেজী; বাংলা কবিতার ডুবোরাজ :: শিমুল সালাহ্উদ্দিন”

দ্বিধাবচনে কবি রফিক আজাদের জন্যে শোক :: শামসেত তাবরেজী

rafiq-azadসেই এক পুরানা জমানায়, আমাদের তখন দ্বিতীয়ার চাঁদের মত গোঁফ উঠছিল, রফিক আজাদ ছিলেন তখন কালের একজন স্টার। স্টার মানে স্টার। সিনেমায় যেমন স্টার থাকেন। একালে কবিরা আপনদোষে প্রান্তিকতাপ্রাপ্ত হলে তারকারা গলে গিয়ে কালো লিকালের চায়ে থিতু হতে থাকে আর কবিরা ট্রেড ইউনিয়নের মত আচরণ শুরু করে। তখনও কবিতার খুন ভুলভ্রান্তিসহ তাজা। সেই সময়, একদিন আমরা জেলখানা রোড ধরে নিরুদ্দেশের দিকে হাঁটতে বেরোই আর তাঁর ‘অসম্ভবের পায়ে’ দাঁড়ানো জীবন-যাপনের গল্প করি। অগোচরে বন্ধুরা সবাই যার-যার মত কামনা করি, যেন এই জীবন আমাদেরও দেহসুদ্ধ উপড়ে ফেলে। তখন আমাদের সেই বয়স যখন আমরা গোপনে শরীর এবং দেহের অর্থ আলাদা করতে শিখছি। আমরা রফিক আজাদের সেই সুমহান দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াই। কিন্তু দরজা খুলতে ব্যর্থ হই। আমাদের হাতের আঙুল থেকে রক্ত ঝরে। কব্জি ছড়ে যায়।

Continue reading “দ্বিধাবচনে কবি রফিক আজাদের জন্যে শোক :: শামসেত তাবরেজী”

আনবিয়ারেবল্ লাইটনেস্ অফ বিয়িং :: জাহেদ আহমদ

flying-hat

‘অর্থই সকল অনর্থের মূল’ — উদ্ধৃতিচিহ্নিত কৈশোরকালিক নীতিবাক্যটিকেই শিরোনাম ধরে একটা গদ্য দাঁড় করাবার চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল মাথায়। গদ্য বলতে গেরামভারী গবেষকবৃন্দের গগনবিদারী গাণিতিক সমীকরণাকীর্ণ জট্টিল জিনিশ গোছের কিছু নয়, একান্ত আমার খোঁড়া যুক্তির অশ্লীল আমিত্ববহুল লেখা একটা। যাকে বলে প্রবন্ধ বা ওই-রকম কোনোকিছুর ‘প্রকৃষ্টরূপে বন্ধন’ থাকবে না তাতে, থাকবে না সরমা-পরমা খুঁজে দেখিবার কোনো খাঁই, নিকৃষ্ট নর্তনকুর্দন থাকবে কেবল। তবু যদি নিজের কথাগুলো বলা যায়, নিজ বলে কিছুই নাই স্বীকার করে নিয়েও, মন্দ হবে না। গলগণ্ডালঙ্কৃত গবেষক হওনের চাইতে আমি পছন্দ করব গগন হরকরা হতে। ‘আমি কোথায় পাব তারে / আমার মনের মানুষ যে রে’ … আর কিছু চাই না ভাই, পাই তারে যদি। মনের মানুষ বাইরে পাওয়া যায়? কবিতা কখনো পাওয়া যায় কবিতালোচনায়? Continue reading “আনবিয়ারেবল্ লাইটনেস্ অফ বিয়িং :: জাহেদ আহমদ”

‘ভাষা’ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’র ৪টি লেখা

Untitled

ভাষা-শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকতা

সর্বপ্রথমে বলে রাখি আমার স্বভাবে এবং ব্যবহারে হিন্দু-মুসলমানের দ্বন্দ্ব নেই। দুই পক্ষেরই অত্যাচারে আমি সমান লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ হই এবং সে রকম উপদ্রবকে সমস্ত দেশেরই অগৌরব বলে মনে করে থাকি।
ভাষামাত্রেরই একটা মজ্জাগত স্বভাব আছে, তাকে না মানলে চলে না। স্কটল্যাণ্ডের ও ওয়েল্‌সের লোকে সাধারণত আপন স্বজন-পরিজনের মধ্যে সর্বদাই যে-সব শব্দ ব্যবহার করে থাকে তাকে তারা ইংরেজি ভাষার মধ্যে চালাবার চেষ্টামাত্র করে না। তারা এই সহজ কথাটি মেনে নিয়েছে যে, যদি তারা নিজেদের অভ্যস্ত প্রাদেশিকতা ইংরেজি ভাষায় ও সাহিত্যে চালাতে চায় তা হলে ভাষাকে বিকৃত ও সাহিত্যকে উচ্ছৃঙ্খল করে তুলবে। কখনো কখনো কোনো স্কচ লেখক স্কচ ভাষায় কবিতা প্রভৃতি লিখেছেন কিন্তু সেটাকে স্পষ্টত স্কচ ভাষারই নমুনা স্বরূপে স্বীকার করেছেন। অথচ স্কচ ও ওয়েল্‌স ইংরেজের সঙ্গে এক নেশনের অন্তর্গত।
আয়ারল্যাণ্ডে আইরিশে-ব্রিটিশে ব্ল্যাক অ্যাণ্ড ট্যান নামক বীভৎস খুনোখুনি ব্যাপার চলেছিল কিন্তু সেই হিংস্রতার উত্তেজনা ইংরেজি ভাষার মধ্যে প্রবেশ করে নি। সেদিনও আইরিশ কবি ও লেখকেরা যে ইংরেজি ব্যবহার করেছেন সে অবিমিশ্র ইংরেজিই।
ইংরেজিতে সহজেই বিস্তর ভারতীয় ভাষার শব্দ চলে গেছে। একটা দৃষ্টান্ত jungle– সেই অজুহাতে বলা চলে না, তবে কেন অরণ্য শব্দ চালাব না! ভাষা খামখেয়ালি, তার শব্দ-নির্বাচন নিয়ে কথা-কাটাকাটি করা বৃথা।

Continue reading “‘ভাষা’ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’র ৪টি লেখা”