কবি ফরিদ কবির- এর জন্মদিনে

14520544_10154646860238566_4102971806222032083_nস্থির মানসের কবি ফরিদ কবির। সকলেই কমবেশি জানে, স্থিরতা অর্জন করতে হয়, আদায় করবার বিষয় নয়। এবং তা করতে গেলে একজন ব্যক্তির, বিশেষ করে তিনি যদি কবি হতে চান, ঘামগন্ধের শ্রমে তাকে কবিতার জন্য শব্দ, চিত্রকল্প, উপমা, সর্ব অর্থে কবিতার প্রকরণ-কৌশল, কাব্যবিষয়ের যথাযথ স্থাপত্যের জন্য অর্জন করতে হয়। Continue reading “কবি ফরিদ কবির- এর জন্মদিনে”

Advertisements

সালভাতোরে কোয়াসিমোদোর কবিতা :: অনুবাদ: আলম খোরশেদ

salvatore-quasimodoআধুনিক ঐতালিক কবিতার অন্যতম পথিকৃত সালভাতোরে কোয়াসিমোদোর জন্ম ১৯০১ সালে, সিসিলিতে। পেশায় পুরকৌশলী কোয়াসিমোদো একজন আদ্যন্ত স্বশিক্ষিত কবি। তাঁর সতীর্থ ও সমসাময়িক অপর দুই আধুনিক জ্যুসেপ্পে উনগারেত্তি ও ইউজেনিও মন্তালের মতো তিনি ঠিক সাহিত্যের প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্র নন। তাঁর Continue reading “সালভাতোরে কোয়াসিমোদোর কবিতা :: অনুবাদ: আলম খোরশেদ”

কবি জুয়েল মাজহার-এর জন্মদিনে

994302_10200635781431817_1576857488_nটানা তিন রাত ঘুমাতে পারিনি। তিন রাত তিন অচেনা স্থানে। হঠাৎ চিৎকার, মুহূর্তেই নৈঃশব্দ্য। মানুষের চিৎকার, মানুষের নৈঃশব্দ্য। বেশ কয়েকবার খুনি কয়েদির লাল চোখের সামনে প্রার্থনাভঙ্গিতে বসা ও শ্লেটে নিজের নাম লেখার পর তা দু’হাতে উঁচিয়ে আমার মত আরও দর্শককে দেখিয়ে মাঠ পেরোলাম। যেতে যেতে বেশ কয়েক তলাবিশিষ্ট একটি ভবন দেখিয়ে এক প্রহরী বলল : যদি কেউ তোমারে শুধায়, বলবে বকুলে! বকুল সেল, কারাভ্যন্তরের সবাই চেনে। প্রহরী একটি ছোট্ট কক্ষে নিয়ে গেল। এক দুই করে গুনলাম। এগারো শিক। অচেনা একজনকে বলতে শুনলাম, ‘ভাই, আগেরটাতে চৌদ্দ ছিল!’ ছোট্ট একটি জানালাও আছে,তাতে চোখ মেললেই সবুজ-হলুদ ঘাস দেখা যায়। প্রহরী কয়েকটি কম্বল এনে দিল। কম্বলগুলোয় কেমন এক গন্ধ, বহু মানুষের ঘামের, চোখের জলের! ঘরের এক কোনায় সেই কম্বলের ওপর দুই হাঁটু বুকে চেপে শুয়ে পড়লাম। তিন দিন পর। তিন রাত পর। টের পেলাম ‘ঘুমের পোশাক গায়ে’, তবু ঘুম আসছিল না। কাঁপতে কাঁপতে আমিও কয়েক ফোঁটা জল কম্বলে মিশিয়ে দিলাম। সেই জল মিশে গেল অন্যদের জলে। শুষে নিল অভ্যস্ত কম্বল। Continue reading “কবি জুয়েল মাজহার-এর জন্মদিনে”

যৌবরাজিক পদাবলি :: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

 

painting-232কবিকে বলা হয় ভাষার অধিপতি। ভাষার অনুগামী যে- কোনো শিল্প-শাখায় তাই কবিরা যুগে যুগে যখনই হাত দিয়েছেন, তাদের হাতে সেই শাখা ফুলে-ফসলে আলাদাভাবেই তাৎপর্যময় এক মাত্রায় শোভিত হয়েছে।

প্রসঙ্গসূত্রে আমরা গান, গীতিকবিতার দিকে তাকালেই দেখতে পারি, এক সুদীর্ঘকাল এইখানে ছিল কবিদের একচেটিয়া আধিপত্য। ওরাল ট্র্যাডিশনের বাইরে কবিতাকে যখন লেখ্যরূপে বিরাজ করতে হয়েছে, তখন গানের সাথে কবিদের সেই বাঁধন কিছু শিথিল হলেও আজও একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়নি। বরং গানের কথা নির্মাণে সবসময়ই কবির লেখা উৎকর্ষের দিক দিয়ে বিশিষ্ট। ফলে, ‘কবির লেখা গান’র ব্যাপারে বহুবিধ সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, শৈল্পিক কারণে নকটার্ন বিশেষ মাত্রায় আগ্রহী। Continue reading “যৌবরাজিক পদাবলি :: সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ”

রবি রিগিং :: জাহেদ আহমদ

loushanguanarea_0013অন্যান্য অপারেটর নয়, মার্কেটে এছাড়া আরও অন্তত দশ/বারো অপারেটর রয়েছে যাদের বিজনেস্ বছরভর চলে এবং যারা রাষ্ট্রীয় বহুবিধ রেয়াতি সুবিধাপ্রাপ্ত, প্রতিষ্ঠান ও জনপারিমণ্ডলিক সমর্থন ও মদদে পুষ্ট, সেসব নয়, এই নিবন্ধে কেবল রবি অপারেটর নিয়া আলাপ সঞ্চালিত হতে চলেছে। এর বাইরে যেসব অপারেটর রয়েছে, এর মধ্যে যেমন কাজী অপারেটরের নামোল্লেখ করা যায়, সেসব নিয়া আলাদা সাপ্লি রিলিজের নেসেসিটি নিশ্চয় আছে। এই দুই অপারেটরের কার কত সাবস্ক্রাইবার, ইন্ মিলিয়ন্ গ্রাহকসংখ্যাটা কত অথবা সাবস্ক্রিপ্শন্ অলরেডি বিলিয়ন্ ছাড়ায়ে গেছে কি না, এখানে সেসব তথ্যালোচনা আমরা চালাতে চাইছি না। কাল্ট বলতে যা বোঝায়, ইন্ বেঙ্গলি, লিটারেরি কম্যুনিকেশন্ বিজনেস্ সেক্টরে এরা ফাংশন্যাল্ সমস্ত অর্থেই জায়ান্ট একেকটা কাল্ট। তবে দেশের টেলিকম্যুনিকেশন্ বিজনেসে যেমন বিটিটিবি ছিল মনোপোলি কিছু বছর আগেও, গত দুই দশকে সেখানে অ্যাট লিস্ট আট/নয়টা সার্ভিস্-প্রোভাইডার বাজারে এসেছে, প্রত্যেকেই পৃথক সাবস্ক্রাইবার রেজিম্ গড়ে তুলেছে ছোট-বড়-মাঝারি রেইঞ্জের, একচ্ছত্র বিটিটিবিকে এখন কম্পিট করে যেতে হচ্ছে এদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত। রবিকেও কম্পিট করতে হচ্ছে, কম্পিটিটরদের বিজনেস্ পোর্টফোলিয়োও মোটাতাজা হচ্ছে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যবহ ও সমানুপাতিক স্ট্যাটাসে। এতকিছুর পরেও, রবির কিংবা বিটিটিবির, রাষ্ট্র অথবা সাংস্কৃতিক মোটাগাট্টা প্যাট্রনশিপ্ সত্ত্বেও উভয়ের ব্যবসাগত কোয়ালিটি কিংবা কোয়ান্টিটি ঠিক কোন পজিশনে, এই নিবন্ধে সেসবের উত্তর মিলছে না। সাবস্ক্রাইবারদের স্যাটিসফেকশন্ লেভেলের কোনো জরিপও এখানে করা হচ্ছে না। আপন শক্তিতে জ্বলে ওঠার স্লোগ্যান্ নিয়া বাণিজ্য কতটা ভালো হচ্ছে না-হচ্ছে সেসব কিচ্ছুটিরই ফিরিস্তি এইখানে পাওয়া যাবে না। সাপ্লিমেন্টারি অন্ রবি অপারেটর মুখ্যত এই রচনার সাবটাইট্যল্ হতে পারে। কেবল রবি বিষয়ক কতিপয় আশকথা-পাশকথা, তা-ও গোছানো অতটা না, আর তারচেয়েও অধিক উৎক্ষিপ্তভাবে এসেছে ইমার্জিং নব্য লগ্নিকারক যারা লিটারেরি কম্যুনিকেশন্ ডোমেইনে ক্যারিয়ার বিল্ড-আপ্ করতে চেষ্টাশীল অধুনা, নানাবিধ শ্রমনিষ্ঠ ও শ্রমবিমুখ ফন্দিফিকিরে একটা অ্যাগ্রেসিভ বিজনেসে স্টেইক্ বাগাতে মত্ত যারা, তাদেরে নিয়া কিছু কন্সার্ন। উদ্বেগের কারণ ও ব্যাখ্যাবিস্তারণ মোটেও কোনো গবেষণাসমর্থিত নয়, নিছক মনগড়া, বানোয়াট। মোটামুটি ডিসক্লেইমার এবং ওয়ার্নিং বিসমিল্লায় দিয়ে থুয়ে এগোনো সততাসম্মত। বক্ষ্যমাণ নিবন্ধের যারা সম্ভাব্য দর্শক, অতএব, পোস্টস্ক্রিপ্ট পেরিয়ে ভেতরগলিতে প্রবেশের আগে স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নেবেন নিশ্চয়। Continue reading “রবি রিগিং :: জাহেদ আহমদ”

মোদিয়ানোর মানুষেরা :: রাজ মণ্ডল পায়েল

Patrick-Modiano-les-cinq-chefs-d-oeuvre-du-nouveau-Prix-Nobelনোবেল লরিয়েট, ফ্রেঞ্চ উপন্যাসিক প্যাট্রিক মোদিয়ানোর চৌদ্দতম উপন্যাস হলো, আউট অফ দা ডার্ক। ১৯৯৬-এ প্রথম প্রকাশের পর ফ্রান্স’র পাঠক সমাজে ব্যাপক সাড়া জাগায় এই উপন্যাসটি। মোদিয়ানো তখনো বিশ্বজুড়ে অতো নামকরা কোনো লেখক ছিলেন না। ২০১৪ সালে তার ঝুলিতে নোবেল পুরস্কার পড়লে সারা বিশ্বের সাহিত্য অঙ্গনে সাড়া পড়ে যায়; কেন এক স্বল্প পরিচিত লেখক এই সর্বোচ্চ সম্মান-সূচক পুরস্কার পেলেন! সাহিত্য অঙ্গনে ঝড় ওঠে, বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয় তার কাজ নিয়ে। সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে জানার জন্য, মোদিয়ানো কি ফর্মে লেখেন।

মোদিয়ানো একটা সম্পুর্ন নতুন ফর্মে আউট অফ দা ডার্ক লেখেন, যা পাঠকদের কাছে অপরিচিত ছিল। তিনি অসংখ্য চরিত্র বা অনেক খণ্ডিত প্লট ব্যাবহার করে উপ্যনাসকে এগিয়ে নিয়ে যান না। চরিত্রদের অন্তর-জগতের কথা খুব সামান্যই বলেন। তাঁর চরিত্ররা আগাগোড়া বোহেমিয়ান। তাদেরকে দেখা যায় প্যারিসের অথবা লন্ডনের রাস্তায়, ক্যাফে, হোটেলে। আউট অফ দা ডার্কের কোন চরিত্রের স্থায়ী কোন বাসস্থান নেই। Continue reading “মোদিয়ানোর মানুষেরা :: রাজ মণ্ডল পায়েল”

পাঠ্যপুস্তকের ছড়া ও কবিতা

ছবিযে-কোনো বয়সের লোকজন মাঝে মাঝে আড্ডায় মেতে ওঠে ছেলেবেলার ছড়া ও কবিতা স্মরণ করার প্রতিযোগিতায়; এ হলো সুন্দর দিনগুলি নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠা।আমাদের সবার বেড়ে ওঠায়, মানসগঠনে পাঠ্যপুস্তকের ছড়া ও কবিতার যথেষ্ট প্রভাব আছে। শুধু ছড়া বা কবিতাগুলিই নয়, বরং সে-সবের সাথে যুক্ত সাদা-কালো, রঙিন ছবিগুলি চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঝে মাঝে।শব্দ ও তুলিতে ফুটে ওঠা সেই বিচিত্র জগৎ আমাদের কল্পনাকে বারবার উসকে দিয়েছে, কল্পনা করার ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলেছে।স্কুল পার হয়ে আসার পর কেনো শুধুই স্মরণ করা, কেনো কিছু কিছু ছড়া-কবিতা ভুলে যাওয়া! মুখের সামনে সবগুলি একসাথে পেলে হয়তো পড়তে পড়তে মনে পড়ে যাবে ছেলেবেলার আরও অনেক অনেক স্মৃতি; রং-রূপ-রসের এক আশ্চর্য জগৎ ঘুরে আসা যাবে। এখানে প্রকাশ করা হলো অল্প কিছু লেখা; এগুলি পড়তে পড়তে মনে পড়ার খেলায় যদি আরও কিছু কবিতার নাম পাওয়া যায়, তবে ‘নকটার্ন’ সেগুলিও সংযুক্ত করবে এই পোষ্টে। এই ছড়া-কবিতাগুলি পাঠের ভিতর দিয়ে হয়তো আমরা আমাদের মানসগঠনে এ-সবের প্রভাবকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে পারবো, হয়তো আরও অনেক রকম চিন্তাকে উসকে দেবে এই ছোট্ট প্রয়াস।যারা লেখালেখির সাথে যুক্ত, তারা বাংলা ভাষার নিজস্ব সুর-ছন্দকে আরও গভীর ভাবে চিহ্নিত করতে পারবেন, যখন আমরা অনুবাদের ভাষায় বাংলা কবিতা লিখতে বসেছি।- নকটার্ন

…………………………………………………………………………………………………………

Continue reading “পাঠ্যপুস্তকের ছড়া ও কবিতা”