সদ্‌গুরু প্রসঙ্গে ওশো এবং কবির :: অনুবাদ : তোরিফা নাজমিনা মণি

এই লেখাটি কবিরের দুটো গান নিয়ে রজনীশ ওশো’র আলোচনা। আসুন লেখাটি পড়ার আগে সংক্ষেপে কবির সম্পর্কে দুটো কথা জানা যাক। কবির ১৫ শতকের একজন ভারতীয় মরমি কবি এবং সন্ত। যাঁর লেখা হিন্দু ভক্তিগীতিকে প্রভাবিত করেছে এবং তাঁর শ্লোক শিখ ধর্মের আদি গ্রন্থে পাওয়া যায়। শোনা যায় তাঁর জন্ম মুসলিম পরিবারে, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তাঁর গুরু রামানন্দ দ্বারা অত্যন্ত প্রভাবিত ছিলেন। অনেকে এও দাবী করেন যে তাঁর জন্ম মুসলিম পরিবারে হতেই পারে না। তাঁর জীবিত কালে অধ্যাত্মবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তিনি হিন্দু এবং মুসলিম উভয়েরই অপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর আবার হিন্দু Continue reading “সদ্‌গুরু প্রসঙ্গে ওশো এবং কবির :: অনুবাদ : তোরিফা নাজমিনা মণি”

Advertisements

শুভ জন্মদিন, শামসেত তাবরেজী; বাংলা কবিতার ডুবোরাজ :: শিমুল সালাহ্উদ্দিন

967162_10151639880975865_483310329_o

তাবরেজী ভাইয়ের লগে আমার প্রথম দেখা ২০০৮ সালের মার্চ-এপ্রিলের কোন একদিন শাহবাগের বেগম সুফিয়া কামাল গণগ্রন্থাগারের ফুটপাতে। চারুকলার দিক থেকে উনি দৌঁড়ায়া আসতেছিলেন, হাফপ্যান্ট আর গেঞ্জি পইরা, আমি আর পিয়াস (মজিদ) ভাই যাইতেছিলাম মধুর ক্যান্টিনের দিকে। Continue reading “শুভ জন্মদিন, শামসেত তাবরেজী; বাংলা কবিতার ডুবোরাজ :: শিমুল সালাহ্উদ্দিন”

দ্বিধাবচনে কবি রফিক আজাদের জন্যে শোক :: শামসেত তাবরেজী

rafiq-azadসেই এক পুরানা জমানায়, আমাদের তখন দ্বিতীয়ার চাঁদের মত গোঁফ উঠছিল, রফিক আজাদ ছিলেন তখন কালের একজন স্টার। স্টার মানে স্টার। সিনেমায় যেমন স্টার থাকেন। একালে কবিরা আপনদোষে প্রান্তিকতাপ্রাপ্ত হলে তারকারা গলে গিয়ে কালো লিকালের চায়ে থিতু হতে থাকে আর কবিরা ট্রেড ইউনিয়নের মত আচরণ শুরু করে। তখনও কবিতার খুন ভুলভ্রান্তিসহ তাজা। সেই সময়, একদিন আমরা জেলখানা রোড ধরে নিরুদ্দেশের দিকে হাঁটতে বেরোই আর তাঁর ‘অসম্ভবের পায়ে’ দাঁড়ানো জীবন-যাপনের গল্প করি। অগোচরে বন্ধুরা সবাই যার-যার মত কামনা করি, যেন এই জীবন আমাদেরও দেহসুদ্ধ উপড়ে ফেলে। তখন আমাদের সেই বয়স যখন আমরা গোপনে শরীর এবং দেহের অর্থ আলাদা করতে শিখছি। আমরা রফিক আজাদের সেই সুমহান দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াই। কিন্তু দরজা খুলতে ব্যর্থ হই। আমাদের হাতের আঙুল থেকে রক্ত ঝরে। কব্জি ছড়ে যায়।

Continue reading “দ্বিধাবচনে কবি রফিক আজাদের জন্যে শোক :: শামসেত তাবরেজী”

আনবিয়ারেবল্ লাইটনেস্ অফ বিয়িং :: জাহেদ আহমদ

flying-hat

‘অর্থই সকল অনর্থের মূল’ — উদ্ধৃতিচিহ্নিত কৈশোরকালিক নীতিবাক্যটিকেই শিরোনাম ধরে একটা গদ্য দাঁড় করাবার চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল মাথায়। গদ্য বলতে গেরামভারী গবেষকবৃন্দের গগনবিদারী গাণিতিক সমীকরণাকীর্ণ জট্টিল জিনিশ গোছের কিছু নয়, একান্ত আমার খোঁড়া যুক্তির অশ্লীল আমিত্ববহুল লেখা একটা। যাকে বলে প্রবন্ধ বা ওই-রকম কোনোকিছুর ‘প্রকৃষ্টরূপে বন্ধন’ থাকবে না তাতে, থাকবে না সরমা-পরমা খুঁজে দেখিবার কোনো খাঁই, নিকৃষ্ট নর্তনকুর্দন থাকবে কেবল। তবু যদি নিজের কথাগুলো বলা যায়, নিজ বলে কিছুই নাই স্বীকার করে নিয়েও, মন্দ হবে না। গলগণ্ডালঙ্কৃত গবেষক হওনের চাইতে আমি পছন্দ করব গগন হরকরা হতে। ‘আমি কোথায় পাব তারে / আমার মনের মানুষ যে রে’ … আর কিছু চাই না ভাই, পাই তারে যদি। মনের মানুষ বাইরে পাওয়া যায়? কবিতা কখনো পাওয়া যায় কবিতালোচনায়? Continue reading “আনবিয়ারেবল্ লাইটনেস্ অফ বিয়িং :: জাহেদ আহমদ”

‘ভাষা’ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’র ৪টি লেখা

Untitled

ভাষা-শিক্ষায় সাম্প্রদায়িকতা

সর্বপ্রথমে বলে রাখি আমার স্বভাবে এবং ব্যবহারে হিন্দু-মুসলমানের দ্বন্দ্ব নেই। দুই পক্ষেরই অত্যাচারে আমি সমান লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ হই এবং সে রকম উপদ্রবকে সমস্ত দেশেরই অগৌরব বলে মনে করে থাকি।
ভাষামাত্রেরই একটা মজ্জাগত স্বভাব আছে, তাকে না মানলে চলে না। স্কটল্যাণ্ডের ও ওয়েল্‌সের লোকে সাধারণত আপন স্বজন-পরিজনের মধ্যে সর্বদাই যে-সব শব্দ ব্যবহার করে থাকে তাকে তারা ইংরেজি ভাষার মধ্যে চালাবার চেষ্টামাত্র করে না। তারা এই সহজ কথাটি মেনে নিয়েছে যে, যদি তারা নিজেদের অভ্যস্ত প্রাদেশিকতা ইংরেজি ভাষায় ও সাহিত্যে চালাতে চায় তা হলে ভাষাকে বিকৃত ও সাহিত্যকে উচ্ছৃঙ্খল করে তুলবে। কখনো কখনো কোনো স্কচ লেখক স্কচ ভাষায় কবিতা প্রভৃতি লিখেছেন কিন্তু সেটাকে স্পষ্টত স্কচ ভাষারই নমুনা স্বরূপে স্বীকার করেছেন। অথচ স্কচ ও ওয়েল্‌স ইংরেজের সঙ্গে এক নেশনের অন্তর্গত।
আয়ারল্যাণ্ডে আইরিশে-ব্রিটিশে ব্ল্যাক অ্যাণ্ড ট্যান নামক বীভৎস খুনোখুনি ব্যাপার চলেছিল কিন্তু সেই হিংস্রতার উত্তেজনা ইংরেজি ভাষার মধ্যে প্রবেশ করে নি। সেদিনও আইরিশ কবি ও লেখকেরা যে ইংরেজি ব্যবহার করেছেন সে অবিমিশ্র ইংরেজিই।
ইংরেজিতে সহজেই বিস্তর ভারতীয় ভাষার শব্দ চলে গেছে। একটা দৃষ্টান্ত jungle– সেই অজুহাতে বলা চলে না, তবে কেন অরণ্য শব্দ চালাব না! ভাষা খামখেয়ালি, তার শব্দ-নির্বাচন নিয়ে কথা-কাটাকাটি করা বৃথা।

Continue reading “‘ভাষা’ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’র ৪টি লেখা”

মদ, যৌবন এবং কবিতা :গগন রিস্ম :: অনুবাদ: মাহমুদ আলম সৈকত

 

মদ, যৌবন এবং কবিতা;উর্দু কাব্যের অতিপুরোনো অপব্যাখ্যা

গল্পটা আমি প্রায়ই করে থাকি, বিশেষত নতুন ব্যাচে যারা আমার ক্লাসে থাকে তাদের সাথে। গল্পটা এই – হরকিষাণ লাল স্যারের প্রথম ক্লাসেই একজন ছাত্র প্রশ্ন ছুঁড়ে বসল, উর্দু কাব্য মদ আর যৌবনের মত্ততা ছাড়া আর কিছুই না, আছে কি? লাল স্যার ছিলেন পাঞ্জাব সরকারকর্তৃক চালুকৃত উর্দু ডিপ্লোমা কোর্সের ঝানু শিক্ষক, স্মিত হেসে স্রেফ দুটো পঙক্তি আওড়ালেন-

উসকে প্যয়মানে মে কুছ অউর, মেরে প্যয়মানে মে কুছ অউর
দেখনা সাকি হো না যায়ে, তেরে ম্যয়খানে মে কুছ অউর Continue reading “মদ, যৌবন এবং কবিতা :গগন রিস্ম :: অনুবাদ: মাহমুদ আলম সৈকত”

‘ভালোবাসার চল্লিশ নিয়ম’ :: সারওয়ার চৌধুরী

249147_10151721529318185_491360206_n

যতক্ষণ না অবচূর্ণনের রেণু হই….

কোনিয়া, ১২ জুন, ১২৪৫ খৃস্টাব্দ। (আমি শামস তাবরিজি বলছি।) উন্মাতাল ঈমানদার তারা! রমজান মাসে রোজা রাখলেন, কোরবানীর ঈদে ভেড়া জবাই করলেন পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবার উদ্দেশ্যে, জীবনে একবার যদি-বা হজ্বের সুযোগ আসে, তা গেলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেন, কিন্তু এইসব বন্দেগীর সাথে যদি ভালোবাসাবোধ না থাকে, তাহলে ওসব কষ্টের মানে কি? ঈমান একটি শব্দ, ভাষা মাত্র, এর কেন্দ্রে ভালোবাসা না থাকলে, তা নড়বড়ে এবং প্রাণহীন হয়, ফাঁপা ও শূন্যগর্ভ হয় – সত্যিকার কোনো উপলব্ধি এতে আসে না। তারা কি মনে করেন আল্লাহ মক্কা মদীনায় বা কোনো স্থানীয় মসজিদে থাকেন? কেমনে তারা আল্লাহকে কোথাও সীমাবদ্ধ আছেন ভাবেন? (এখানে শামসের ভাষ্য এসেছে ওল্ড টেস্টামেন্ট থেকে, গড বলছেন – ‘নাইদার মাই হেভেন নর মাই আর্থ এমব্রেসেস মি, বাট দ্য হার্ট অব মাই বিলিভিং সার্ভেন্ট ডাজ এমব্রেস মি।’ এই দলিলটা Continue reading “‘ভালোবাসার চল্লিশ নিয়ম’ :: সারওয়ার চৌধুরী”